ফেনী চেম্বার পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে

(১৯ জুন ২০১২) ফেনী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারন করছে। একের পর এক মামলা জটে আটকে গেছে চেম্বার অব কমার্সের কার্যকরী কমিটির নির্বাচন। এতে করে ব্যবসায়ীরা নানা রকম অসুবিধার সম্মূখিন হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১ অক্টোবর ছিলো চেম্বার অব কমার্সের কার্যকরী কমিটির নির্বাচন। কিন্তুু মামলা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ের এ নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। এরপরও একের পর এক দায়ের হয় মামলা। দু’দফায় চেম্বার সভাপতির মেয়াদ বৃদ্ধির পরও নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ১শ ৫০ দিনের সময় বেধে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: খালেদ রহিমকে। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে তিনিও সফল হননি। ইতোমধ্যে তাকে আরো ১শ ২০ দিন সময় দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে গত সপ্তাহে আরো ১টি মামলাও রজ্জু হয়েছে। সবশেষ মামলাটির বাদী স্টার লাইন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক জাফর উদ্দিন। মামলায় চেম্বারের সদস্য সচিব আবদুল হক চৌধূরী কে একমাত্র বিবাদী করা হয়। সাবেক পরিচালক জাফর উদ্দিনের অভিযোগ চেম্বারের সদস্য সচিব আবদুল হক চৌধূরী সংগঠনের নিয়ম অমান্য করে বিগত নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিক্রি বাবত ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্বসাৎ করেছেন। এব্যাপারে তাকে চেম্বার প্রশাসক উক্ত টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য লিখিত ভাবে আদেশ দিলেও তিনি তা অমান্য করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, চেম্বারের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী তহবিলে ২শ টাকার বেশি নগদ রাখা বেআইনী। এদিকে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও নানা রকম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একইভাবে চেম্বারের অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে অনেকটা বিপাকে পড়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: খালেদ রহীম। তিনি জানান, সর্বশেষ মামলাটি ছাড়াও এর আগে ৪টি মামলায় আটকে রয়েছে নির্বাচন। চেম্বারের পক্ষ থেকে যথারীতি আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে আপিল শুনানির ধার্য তারিখ রয়েছে। তিনি আরো জানান, মে মাসের শেষ সপ্তাহে তার নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাণিজ্য মন্ত্রনালয় ২য় দফায় তার নিয়োগ আরো ১শ ২০ দিন বৃদ্ধি করেছেন। তিনি বলেন, উল্লেখিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে না পারলে তিনি বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রনালয়কে জানাবেন। তার মতে, মামলার পর মামলা দিয়ে নয়; বরং সমঝোতার মধ্যেই চেম্বারের জটিলতা নিরসন সহজ হতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।