কম্পিউটার প্রশিক্ষনের নামে এমএলএম প্রশিক্ষন! প্রতারনার ফাঁদে আটকা পড়ছে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।

(২৭ জুন ২০১২):: কম্পিউটার প্রশিক্ষন, সনদ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ফেনী শহরের অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে ভর্তি করানো হচ্ছে। কিন্তু কম্পিউটার প্রশিক্ষন না দিয়ে তাদের এমএলএম পদ্ধতিতে কোটিপতি হওয়ার কলাকৌশল শিখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষা নিয়েও এমএলএম (মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানী) ব্যবসা শুরু করেছে একটি অসাধু চক্র। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে শুরু করেছে তাদের এ ব্যবসা। মিডস নামের এ কোম্পানীটির ফেনী অফিস মিজানরোড়স্থ জুম্মা শপিং সেন্টারের ৫ম তলায়। সেখানেই চলছে তাদের যাবতীয় কার্যক্রম। এতে প্রথমদিকে ফেনী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করা হয়। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীদের সহযোগীতায় ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, জিয়া মহিলা কলেজ, আলিয়া মাদ্রাসা সহ বড় বড় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ প্রতারনার ফাঁদে আটকা পড়ছেন। কিছৃ নামদারী শিক্ষককে সেখানে ভর্তি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, কম্পিউটার প্রশিক্ষন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদ নিশ্চয়তার কথা বলছে প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিষ্ঠানের সনদ নিয়ে এ পর্যন্ত কেউ চাকুরী পেয়েছে কিনা তার কোন উল্ল্যেখ যোগ্য তথ্য ঐ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাছে নেই। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উপপরিদর্শক এস এম শাহজাহান জানান, ফেনীতে মিডস আইটি নামে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত কোন প্রতিষ্ঠান নেই। তাই ওই প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ, তারা মানুষদের প্রতারিত করছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিডস্ কার্যালয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে সেখানে হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পড়াশেনা করছেন। একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ভর্তির সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এককালীন পাঁচ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর হাত ধরে যদি অন্যজন ভর্তি হন তবে প্রথম শিক্ষার্থী ৫০০ টাকা পাবেন। এ কারনেই এখানকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর প্রতিযোগিতা। এভাবে তারা লাখ লাখ টাকার স্বপ্ন দেখাচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের। আইটি প্রশিক্ষন নিতে এসে জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যখন এমন লক্ষ লক্ষ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখে তখন তা বাস্তবায়নের পেছনে সে ছুটতে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় এসব ব্যবসার সাথে জড়িত হয় অর্থের দিকে এত বেশী উৎসাহিত করে যে, পক্ষান্তরে সে পড়ালেখার প্রতি নিরুৎসাহিত হয়ে অর্থের পেছনে দৌড়ায়। ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর শিক্ষার্থী মাছুম জানায়, প্রতিষ্ঠানের লোকেরা কম্পিউটার প্রশিক্ষনের ওপর আগ্রহ না দেখিয়ে তার বদলে এমএলএম এর খূটিনাটি শিখতে বাধ্য করছে। এবং অল্প দিনে লাখ লাখ টাকার মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তার প্রশ্ন এখানেতো অনেকেই কাজ করছে কিন্তু লাখ টাকা আয় করছে এরকম লোক এখনো পাওয়া যায়নি। স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। সাখাওয়াত হোসেন সামে আরেক শিক্ষার্থী জানায়, ৮ মাস আগে ভর্তি হলেও এখনো কম্পিউটার প্রশিক্ষন দেয়া হয়নি। আরও শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর মাধ্যমে কিভাবে কোটিপতি হওয়া যাবে তার প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে। তার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর কলাকৌশলের কাগজপত্র ও বই। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, এ কার্যক্রম সচল রাখতে কর্তৃপক্ষ এক শ্রেণীর দালাল সৃষ্টি করে রেখেছে। তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রলোভন দিয়ে ছাত্র আনছে। এসব প্রতিষ্ঠান গুলোতে যারা ভর্তির জন্য আসে তখন তাদের কে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত সনদ দেয়া হবে বলা হয়। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানটি ফেনীতে যে এমএলএম ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে যার কোন আইনগত যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নেই। প্রশাসনে নাকের ডগায় একটি জেলা শহরে নিবন্ধন ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষা নিয়ে কিভাবে এমএলএম ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এ প্রশ্ন জনমনে। নিবন্ধন ছাড়া তারা কারিগরি শিক্ষাবোর্ড অনুমোদিত সনদ দিয়ে থাকে বিষয়টিও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন বলে জানান সচেতন মহল। মিডস আইটির বিভিন্ন কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানান, ছাত্ররা টাকার পিছনে ছুটলে আমাদের কি করার আছে। এ কোম্পানীর ফেনী অফিসের এডমিন ডিরেক্টর নজরুল ইসলাম খোকন জানান, মূলত কম্পিউটার শিক্ষা নিয়ে তাদের ব্যবসা। তিনি জানান ৪ টি প্যাকেজের মাধ্যমে তারা কম্পিউটার শিক্ষা দিয়ে থাকে। তবে প্রতিটি প্যাকেজের সাথে স্পোকেন ইংলিশ ওয়েব ও ইন্টারনেট এবং ই-সার্ভিস ফ্রি দেয়া হয়। এজন্য প্রতিটি প্যাকেজ ৫ হাজার টাকা ফি দিতে হয়। একজন ছাত্র ভর্তি হওয়ার পর শুরু হয় তাকে নিয়ে ব্যবসার মূল পর্ব। প্রশিক্ষণ বাদ দিয়ে তাকে দেখানো হয় কোটি কোটি টাকার হাতছানি। স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়া লেখা ছেড়ে দিয়ে টাকার দিকে দৌড়াতে থাকে শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে সচেতন অভিভাবকগণ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছে।