(২৬ জুন ২০১২)ফেনী জেলার পরশুরাম-ফুলগাজীতে অতি বৃষ্টি আর উজানে পাহাড়ি নদীর পানির ঢলে ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।এতে করে ৩০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়াও বেড়িবাঁধের ২টি স্থানের ভাঙন খোলা থাকায় রোববার ভোর থেকে পরশুরাম চিথলিয়া ইউনিয়নের ৫টি গ্রামসহ ফুলগাজীর সদর ইউনিয়নের ২টিসহ ৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
সে কারণে সোমবার ভোর থেকে আরও ৮টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ।
এতে ১৫ গ্রামের ৫ হাজার পরিবারের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ফসল ও পুকুর, রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। রাস্তায় ৪ ফুট পানি থাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।এতে করে স্থানীয় লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জানা গেছে, বর্তমানে ফেনীর মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অবস্থা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয় লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারছেননা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অবিরাম বর্ষণ, মুহুরী নদীর ভাঙন এলাকা খোলা থাকায় এবং উজানে নদীর পানির চাপে রোববার ভোর থেকে পরশুরাম পৌরসভার একাংশ ও পরশুরাম চিথলিয়া ইউনিয়ন ও ফুলগাজীর সদর ইউনিয়ন আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়।
ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় অধিকাংশ ঘরবাড়িতেই রান্নাবান্না বন্ধ রাখতে হয়েছে। সে কারণে তাদের না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।
জানা যায়, ১৬ জুন শনিবার রাতে মুহুরী নদীর দুই কিলোমিটার দূরত্বে দুটি এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এতে রাতে মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। এর ফলে ভাঙন এলাকা দ্বিগুণ হয়ে যায়।
বর্তমানে পানিবন্দি এলাকার সঙ্গে বিভিন্ন বাজারে যাওয়ার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে আছে। স্থানীয় লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারছেননা। স্থানীয় স্কুল, মাদ্রাসাও বন্ধ রয়েছে।
পরশুরাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তফা জামান বাংলানিউজকে জানান, অবিরাম বর্ষণ ও উজানের নদীর পানির চাপে মুহুরীর নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ আহম্মদ খাঁন বাংলানিউজকে জানান, মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজন দুর্ভোগে পড়েছেন।
তিনি আরও জানান, বেশ কিছু এলাকায় লোকজনের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
