ফেনীতে ভোজ্যপণ্য স্থিতিশীল বেড়েছে সবজির দাম।

(২৪ জুন ২০১২) চলতি সপ্তাহে ফেনীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বৃষ্টির অজুহাতে বেড়েছে সবজির দাম। বৃষ্টির ফলে সবজি নষ্ট হয়ে যায়, ট্রাক ভাড়া বেশি নেয়াসহ নানা সমস্যা দেখিয়ে বিক্রেতারা সবজি বিক্রি করছে চড়া দামে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজি ৩০ টাকা ছেড়ে ৪০ ছুঁই ছুঁই করছে। বাজারে রকমারী সবজির সরবরাহ থাকলেও তা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর কারণে ক্রেতাদের মধ্যে ÿোভ দানা বাঁধছে। ‘সবজির দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষ কী খাবে? মাছের বাজার চড়া। মাংসের অতিরিক্ত দামের ফলে ক্রেতারা দিন দিন এর থেকে মুখ সরিয়ে নিচ্ছে। তাহলে আমরা কী খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করবো বুঝতে পারি না’ ফেনী মুক্ত বাজারে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা এভাবেই তার ক্ষোভ প্রকাশ করে। গত সপ্তাহের তুলানায় পটল ৫ টাকা বেড়ে ২৭ টাকায়, ঢেঁড়শ ৫ টাকা বেড়ে ৩২ টাকায়, কাকরুল ৫ টাকা বেড়ে থেকে ৪০ টাকায়, করলা ২ টাকা বেড়ে ৩৬, কচুমুখী ২ টাকা কমে ৩৫ টাকায়, জিঙ্গা ২০ থেকে ২৫, কাঁচাকলার হালি ১০ থেকে ১৫ টাকায়, কাঁচামরিচ কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ৭০ টাকায়। এছাড়া কিছু সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এরমধ্যে পেঁপে ২০ থেকে ২২ টাকায়, চিচিংগা ২৬ থেকে ৩০ টাকায়, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকায়, কুমড়া আকারভেদে ৩০ থেকে ৮০ টাকায়, লাউ আকারভেদে ২৫ থেকে ৪৫ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, চাল কুমড়া আকারভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে লেবুর দাম ৫ টাকা কমে ১০ টাকা হালিতে, ধনেপাতা কেজিতে ২০০ টাকা, বিলেতি ধনে পাতা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের শাকের আঁটি ৫ থেকে ২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমী ফল হিসেবে কাঁচা আম ১০ টাকা কমে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়।
এদিকে, স্থিতিশীল রয়েছে কিছু ভোগ্য পণের দাম। এর মধ্যে মসুর ডাল ১৪০ টাকা, খেশারী ৬০ টাকা, মুগ ডাল ১২০ মাসকলাই ১২০ টাকা, পোলাওয়ের চাল ৭৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা ও লবণের দাম ১৮ টাকা থেকে ২৮ টাকা। প্যাকেট সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৩০ টাকায় ৫ কেজির বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১১৭ টাকায়। রসুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা। লবণ কেজি প্রতি ২৮ টাকা থেকে ৫ টাকা বেড়ে ৩৩ টাকা। প্যাকেট আটা ২ কেজি ৬৫ খোলা আটা ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশী আদা প্রতি কেজি ৭০ টাকা ও আমদানি ৬০ টাকা, পেঁয়াজ ২৪ টাকায়, চিনি প্রতি কেজি ৫৬ টাকায় এবং গোটা ধনে ৮০ টাকায়, গোটা হলুদ ১২০ টাকায়, শুকনো মরিচ ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির ডিম গত সপ্তাহের তুলনায় হালি প্রতি ২ টাকা বেড়ে গেছে। অপরদিকে মাংসের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। খাসির গোশত ৪৫০ টাকায়, গরুর গোশত ২৫০ টাকায় এবং দেশী মুরগি ২৫০, ফার্মের মুরগি ৪০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকায়, পাকিস্তানী জাতের লাল মুরগি ১৮০ টাকা বিক্রি হয়েছে। মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের মতো ইলিশ ৩ কেজি ৫০০ গ্রাম ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও রুই ১৮০, জাটকা ২২০, পাঙ্গাস ১৫০, চাষ করা কই কুড়িতে ২০০, মাগুর ৭০০, বড় গলদা চিংড়ি ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের বাজারও আগের মতো স্থিতিশীল রয়েছে। বিভিন্নরকম মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪২-৪৫ টাকা, স্বর্ণা ৩৫ টাকা দরে। তবে পুরান মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই ৪২ টাকায়। মশলা বাজার গত সপ্তাহের তুলনায় একটু বেড়েছে। শুকনো মরিচ ১২ টাকা বেড়ে ১১৭ টাকা, জিরায় ২০ টাকা বেড়ে ২২০ টাকা, হলুদ ১২৫ টাকা, ছোলা ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।