(১৮ জুন ২০১২) ফেনীর পরশুরামের মূহুরী কহুয়া সিলোনিয়া বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ প্রকল্পে নিম্নমানের সিসি ব্লক নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিম্নমানের বালু পাথর ও স্বল্প পরিমাণের সিমেন্ট ব্যবহার করায় সিসি ব্লক নদী ভাঙন রোধে কোনো কাজে আসবেনা বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ী এলাকা থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে প্রতিবছর বর্ষাকালে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীর বিস্তীর্ন এলাকা বন্যা কবলিত হয়। এ সময় মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পাড় ভেঙে ব্যাপক এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে আবাদি জমি, ক্ষেত্রের ফসল, ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়। প্রতিবছর বন্যায় এ এলাকার কোটি কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়। যা সরকারি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর উত্তরাঞ্চলকে বন্যামুক্ত করার জন্য এই তিন নদীর পাড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নিমার্ণ শুরু করে। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মূহুরী কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতে মাটির বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলতি বছর শেষ হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১ কিলোমিটার পাড় নির্মাণে আট কোটি টাকার সিসিব্লক তৈরির জন্য ট্রেন্ডার আহ্বান করা হয়। প্রায় ছয়মাস ধরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুলো সিসিব্লক তৈরি করছে। এ দিকে সিসিব্লক নির্মাণ শুরুর পর স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন কাজের মান নিয়ে।
স্থানীয় পরশুরাম পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার কাজি ইউসুফ মাহফুজ এবিনিউজকে জানান, নদী থেকে আহরিত বালু ও নিম্নমানের পাথর দিয়ে সিসিব্লক নির্মাণ করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ একব্যাগ সিমেন্ট ব্যবহার করে পাঁচটি ব্লক তৈরির কথা থাকলে ও তৈরি করা হচ্ছে ১০টি ব্লক। কয়েকদিন পর এসব সিসিব্লক নদীর বাঁধে স্থাপন করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। তার আশঙ্কা করে এ সব নিম্নমানের ব্লক স্থাপন করা হলে কয়েক দিনে পরে নষ্ট হয়ে নদীতে মিশে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু ইউসুফ, কামাল উল্লাহ, রহমত মিয়া সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, নির্মাণ কাজ তদারকী করার জন্য স্থানীয় ভাবে তদারকী কমিটি করা হলেও তাদের নির্মাণ স্থলে দেখা যায় না। স্থানীয় সংসদ সদস্য বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিনিধি ও সাবেক পরশুরাম পৌর মেয়র আবু তালেব নিম্নমানের কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদারা নির্মাণ কাজে ব্যাপক করচুরির আশ্রয় নিয়েছে। এসব ব্লক দিয়ে নদী ভাঙন রোধ সম্ভব নয়।
এ অনিয়মের ব্যাপারে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা রফিক উল্লা এবিনিউজকে জানান, ব্লক নির্মাণ কাজ টেন্ডার সিডিউল অনুযায়ী করা হচ্ছে। তিনি এখন পর্যন্ত কোনো করচুপির খবর পাননি। যে কোনো ক্রটি বিচ্যুতি ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান।
