ফেনীতেও অনলাইনে আয়ের নামে প্রতারণার ফাঁদ

(১২ জুন ২০১২) সরকার যখন ডেসটিনিসহ বিভিন্ন এমএলএম (মাল্টিপারপাস মার্কেটিং কোম্পানী) কোম্পানী গুলোর অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে স্বোচ্চার ঠিক এই সময় ফেনীতে অনলাইনে আয়ের লোভ দেখিয়ে ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসে আছে বেশ কিছু এমএলএম কোম্পানী। তারমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য; ডোলেন্সার, রিয়ালেন্সার, স্কাইল্যান্সার মাইক্রোভিজ ও ভিশন এড ওয়ার্ল্ড। অনুসন্ধানে জানা যায়, এইসব কোম্পানীগুলোর যেমনি কোন বাস্তব ভিত্তি নেই, তেমনি নেই কোন আইনগত ভিত্তিও। এই এমএলএম কোম্পানীগুলো অনলাইনে আয়ের কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে গ্রাহকদের কাছ থেকে। ইতিমধ্যে গত ১ জুন শুক্রবার সারা দেশের গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে স্কাইল্যান্সার নামক অনলাইন ভিত্তিক এক এম.এল.এম কোম্পানী। জানা গেছে, কোম্পানীর চেয়ারম্যান একটি ওয়েবসাইট চালু করে এই প্রতারণার ফাঁদ খোলে। একজন গ্রাহক ১০ ডলারের (প্রতি ডলার ৭০ টাকার সমান) বিনিময়ে এক একটি আই.ডি ক্রয় করার পর ঐ গ্রাহকের নামে একটি কোড ইন্স্টল করে দিয়ে থাকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এরপর প্রতিদিন ঐ গ্রাহককে একটি কোডের বিপরীতে ৩০টি ক্লিক করার জন্য একটি পেইজ দেয়া থাকে। ওই পেইজে ৩০ টি ক্লিক করার জন্য ৩০টি ব্লকও দেয়া থাকে। প্রতিটি ক্লিকের জন্য কোম্পানী ভেদে ২০/১০/৫ সেকেন্ড অপেক্ষা করার পর আরেকটি ক্লিক করতে পারে। তার বিনিময়ে প্রতিটি কোডের বিপরীতে গ্রাহক পেয়ে থাকে ৩ হাজার ১ শ ৫০ টাকা। তবে প্রথম দু’মাসের আয় গ্রাহক পায় না। গ্রাহকের আয় পাওয়া যায় ৩য় মাস থেকে। তবে ঐ গ্রাহক যদি কাউকে জয়েন্ট করাতে পারে তার বিনিময়ে ১ ডলার পেয়ে থাকে। ঐ টাকা নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে ক্যাশ করা যায় বলে জানান কয়েকজন গ্রাহক। অন্যদিকে কেউ গ্রাহক হতে হলে আইডি ক্রয়ের জন্য কোম্পানীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একাউন্টে নগদ টাকা জমা দেয়ার পর তাকে আইডি দেয়া হয়। তবে তাকে কোন ডকুমেন্ট দেয়া হয় না। শুধুমাত্র অন্ধ বিশ্বাসের উপর বিনিয়োগ করে থাকে গ্রাহকরা। ফলে এই কোম্পানীগুলো যে কোন সময় উধাও হয়ে গেলেও আইনগত কোন আশ্রয় নিতে পারবে না গ্রাহকেরা। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, এই কোম্পানীগুলোর গ্রাহকদের সবাই সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ‘ফেসবুক’ ব্যবহারকারী। আর এই কোম্পানীগুলো গ্রাহক সংগ্রহের জন্য বেঁচে নেয় সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমকে। ফেসবুকে কোম্পানীগুলো লোভনীয় অফার দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করে গ্রাহক সংগ্রহ করে থাকে। সদ্য লাপাত্তা হওয়া স্কাইল্যান্সারের গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা যায়- তারা ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে সরল বিশ্বাসে জয়েন্ট করেছিল। পরে মাত্র ৪ মাসের মাথায় হাজার হাজার গ্রাহককে কাঁদিয়ে লাপাত্তা হলো স্কাইল্যান্সার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই অনলাইন ব্যবসাটি বিশেষ করে বিভিন্ন বাসা-বাড়ীতে চলছে বেশী। তাছাড়া বেশ কিছু কম্পিউটার সেলস্ এবং সার্ভিসিং দোকানগুলোতেও চালু হয়েছে আয়ের নামে প্রতারণার ফাঁদ। তার মধ্যে সমবায় সুপার মার্কেটে দেশ কম্পিউটার, কলেজ রোডের পারফেক্ট কম্পিউটার উল্লেখ্যযোগ্য। তাছাড়া একাডেমী রোডের ফারুক হোটেলের উপরে একটি কক্ষে, ট্রাংক রোডের অতিথি হোটেলের পাশের ভবনে ও তমিজিয়া মার্কেটের ৩য় তলায় চলছে এই ঠকবাজ এম.এল.এম কোম্পানীর কার্যক্রম। তবে যে যেখানে বসে এ প্রতারণার ফাঁদ পেতেছেন। যে সে স্থানের ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার দিয়ে টানিয়েছেন ব্যানার, স্টিকার ও লিপলেটসহ বিভিন্ন প্রচারপত্র। আর এই কোম্পানীগুলোর সাথে জড়িতরা সকলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হওয়ায় এমন ব্যক্তিদের টার্গেট করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।