ফেনীতে ভূয়া ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞদের ছড়াছড়ি

(৪ জুন ২০১২) ফেনীতে আইন অমান্যকরে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদনহীন ভূয়াডিগ্রী ব্যবহার করে সাধারন রুগীদের কাছথেকে মোটা অংকের ফি আদায় ছাড়াও হয়রানী করার অভিযোগ রয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা যেমন হচেছ প্রশ্নবিদ্ধ তেমনী রোগীরা ভুল চিকিৎসায় অকালমৃত্যুর শিকারও হচেছ। এই ভূয়া পদবী ও ডিগ্রীধারীদের খুঁটির জোর এতবেশী যে স্বাস্থ্য প্রশাসন এদের কাছে অসহায়। ভূয়া ডিগ্রীধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে সোপর্দ করার জন্য বিএমডিসি থেকে ফেনীর সিভিল সার্জনকে চিঠির মাধ্যমে নির্দেশ দেয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যপারে গত ৪ মাসেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। সরকারী নিয়মনীতিও আইন অমান্য করে ফেনীতে অনেক ডাক্তার তাদের সাইনবোর্ড, ভিজিটিং কার্ড, প্রেসক্রিপশন প্যাড নিষিদ্ধ রয়েছে এমন অতিরিক্ত যোগ্যতা ব্যবহার করে আসছেন। বিশেষ করে বিএমডিসির সংশোধিত আইন অনুযায়ী মেডিকেল এ্যাসিসটেন্টরা তাদের নামের আগে ডাক্তার পদবীটি ব্যবহার করতে পারবেনা। ফেনী শহরের প্রানকেন্দ্রে বাশপাড়া রাস্তার মুখে পাঠান নগর সাব সেন্টারের মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট জহরলাল দাস, ট্রাংক রোডে অরুন দাস সহ শতাধিক ব্যক্তি এভাবে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে টাকা কামাই করছেন। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রী ছাড়াও অনেকে নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবী ব্যবহার করছেন অহরহ। জেলা সদর ছাড়াও উপজেলা ও গ্রামের হাট-বাজারে এদের দৌরাত্মের সীমা নেই। অনেক এমবিবিএস ডাক্তার বিএমডিসির নির্দেশ অমান্য করে এফসিপিএস পার্ট-১, ২, থিসিস পর্ব, ইনকোর্স.সহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডিগ্রী লিখে রোগীদের সাথে প্রতারনা করে আসছে। যা সরকারী আইনানুযায়ী অতিরিক্ত শিক্ষা যোগ্যতা নয়। পোষ্ট গ্রেজুয়েট না থাকা সত্বেও কেউ কেউ নিজেদেরকে গাইনী বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ, হাড়-জোড়া বিশেষজ্ঞ লিখে আসছেন। যা শাস্তি যোগ্য অপরাধ। তারা এমন কিছু ঔষধ লিখছেন যা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। বিএমডিসি আইনের ২৯(২) ধারা অনুযায়ী ভূয়া পদবী, ভুয়া অতিরিক্ত যোগ্যতা ব্যবহার নিষিদ্ধ, এ আইনে অপরাধের দন্ড ৩ বছর কারাদন্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এদের মধ্যে ডাঃ আবদুল মতিন, ডাঃৃৃ জাসরিন আক্তার মিলি, ডাঃ মোঃ শাহেদুল কবির, ডাঃ অসীম কুমার সহ অনেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্লিনিকে রোগী দেখছেন। এ ছাড়া ডাঃ আরাফাত হোসেন নিজেকে এফসিপিএস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসাবে একটি ক্লিনিকে সাইনবোর্ড ব্যবহার করায় বিষয়টি নিয়ে অভিযোগের পর স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তদন্তে ডিগ্রীটি ভূয়া প্রমানিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের পর বিএমডিসি থেকে উক্ত ডাক্তারকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে সোপর্দ করার জন্য ফেনীর সিভিল সার্জনকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দেয়। এ নির্দেশ ৪ মাসেও কার্যকর হয়নি। এ ধরনের অনেক ডাক্তার বসছেন প্রভাবশালীদের প্রাইভেট হাসপাতালে বা ক্লিনিকে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ভেবে জটিল রোগ নিয়ে আসা রোগীরা এদের হাতে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। অনেক সময় ভূল চিকিৎসায় রোগীরা মারা যাচেছ বলে অভিযোগ রয়েছে। জীবন বাঁচানোর শেষ আশ্রয়স্থল গুলি এখন মরন ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুয়া এমবিবিএস ও বিএমডিসির সনদ দিয়ে ফরিদউদ্দিন সুমন ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালে আর এম ও হিসাবে চাকুরি নেয়। বিষয়টি ধরাপড়ার পর সে ফেনী থেকে পালিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধিনে অস্থায়ী নিয়োগের আওতায় ডাক্তার হিসাবে নিয়োগ নিয়ে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম স্বা¯্য’ কমপেক্সে ডাক্তার হিসাবে যোগদান করে। এর আগে সুমন কুমিলা শহরে প্রতারনা করায় ভুয়া ডাক্তার উল্লেখ করে একটি জাতীয় দৈনিকে সুমনের ছবি সহ বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। বিষয়গুলি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত কমিটিকে বিএমডিসি থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে সুমন এক মহিলা ডাক্তারের বিএমডিসির রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ব্যবহার করছেন। চট্রগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারাইয়ার হাটে ভুয়া ডাক্তার নেজাম উদ্দিন জনতার হাতে ধরাপড়ে কান ধরে উটবস করার পর এলাকা ছেড়ে ফেনী শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সাইন বোড ঝুলিয়ে রুগী দেখে যাচেছ। এই নেজাম উদ্দিন হাইকোটের মামলার কপি দেখিয়ে সকলের চোখে ধুলা দিচেছ বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত টিম ঘটনার সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করল্ওে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বিএমএ ফেনীর সাধারন সম্পাদক ডাঃ সাহেদুল ইসলাম কাউছার বলেন, দেশে ভূয়া ডাক্তারদের দৌরত্ব বেড়ে গেছে। তাদের জন্য সাধারন রুগীরা হয়রানী হচেছ।