(০২ মে ২০১২) গতকাল ছিলমহান মে দিবস। এ বছর ১২১ বছরে পা দিল দিবসটি। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্টের শিকাগো শহরে হেঁ মার্কেট চত্বরে পুলিশের গুলিতে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেছিল। যে অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল আজো তার সঠিক মুল্যায়ন পায়নি বাংলাদেশের শ্রমিকরা। আজো বাস্তবায়িত হয়নি ট্রেড ইউনিয়ন আইন তথা শ্রম আইন। কলকারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকরা আজো জানে না মে দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব।ফেনী জেলার পুরুষ, মহিলা ও শিশু শ্রমিকের সংখ্যা সরকারি ভাবে কোন পরিসংখান না থাকলেও ২০০৯ সালে স্থানীয় একটি এনজিও পরিসংখ্যানে জানা যায়, বিড়ি,নির্মাণ বিস্কুট ফ্যাক্টিরি, ওষুধ ফ্যাক্টিরী, হ্যান্ড মেইড পেপার মিল ও রাস্তার মাটি কাঁটার কাজে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নারী শ্রমিক কাজ করছে। অপরদিকে ওয়েলডিং কলকারখান, আইসক্রিম ফ্যাক্টিরী, পরিবহনসহ বিভিন্ন কারখানায় প্রায় ১৫ হাজারের মতো অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু শ্রমিক কাজ করছে।
বিভিন্ন কারখানা ঘুরে জানা যায়, পুরুষ শ্রমিকের পাশাপশি নারী ও শিশু শ্রমিকরা ফেনীতে বিভিন্ন কর্মে নিয়েজিত হয়ে জীবন যাপন করলেও বঞ্চনার স্বীকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। একই কর্ম ঘন্টায় প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক পরিশ্রম করে যে অর্থ পায় তার অর্ধেক অর্থ পায় শিশু শ্রমিক ও নারী শ্রমিকরা। ক্ষেত্র বিশেষে এ শ্রমিকরা দৈনিক ৭০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পাচ্ছে। যেখানে পুরুষরা পাচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার ও বেশি।
বিসিক বিস্কুট কারখানয় কর্মরত নারী শ্রমিক শেফালি, মরিয়ম, জাহানারা, আলেয়া জানান কাজের ধরন অনুসারে তা যে মজুরি পায় তা দিয়ে তাদের পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জীবিকার তাগিতে তবুও স্বল্প পারিশ্রমিকে কাজ করতে হচ্ছে এসব শ্রমিকদের।
শহরের এসএসকে রোডে একটি ওয়াকশপে কর্মরত শিশু শ্রমিক আরিফ জানায়, দরিদ্র পরিবারে জন্মের কারণে পাড়া লেখা না করে কারখানায় কাজ করে যা যাওয়া যায় তা দিয়ে পরিবারে সহায়তা করা হয়। দিনে ১০-১২ ঘন্টা কজ করে পায় মাত্র ১০০ টাকা।
ফেনী বিসিক শিল্প নগরীর সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা জানান, বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্তা, স্বল্প শিক্ষতা নারীদের বিসিক শিল্পনগরীর বিভিন্ন কারখানায় কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে। কাজের ধরন অনুসারে বিভিন্ন গ্রেডে তাদের বেতন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চনা করা হচ্ছে না। মালিকরা শ্রমিকদের কাজের ম্যালয়ন করে ন্যায্য মুজুরি প্রদান করবে এমনটায় মনে করছেন এ জেলার নারী ও শিশু শ্রমিকরা।
