ফেনীর বন কর্মকর্তাদের নিরব চাঁদাবাজি \ কাঠ ব্যবসায়ীদের থানায় মামলা।

(২ মে ২০১২): ফেনী বন বিভাগের চাঁদাবাজী ও হয়রানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবিতে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে ক্ষতিগ্রস্থরা স-মিল মালিকরা। চট্টগ্রাম বিভাগের কাঠ ব্যবসায়ী পপুলার এক্সপোর্ট এন্ড ইমপোর্ট কোঃ প্রাঃ লিমিটেডের ম্যানেজার বিজন লাল ভৌমিক বাদী হয়ে ফেনীর বন কর্মকর্তা মোল্যা রেজাউল করিম রেঞ্জার মোঃ হোসেন খান ও চকিদার মোঃ আলমের বিরুদ্ধে সোমবার রাতে মামলা দায়ের করেন। একই সাথে তাদের অপসারনের দাবীতে প্রধানমন্ত্রী, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী, প্রধান বন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ ফেনী ও বারইয়ারহাট কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি। ফেনী মডেল থানায় মামলা নং-১৩৪২ (৩০ এপ্রিল ২০১২), মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী বন বিভাগের অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক হারুন মজুমদার, আবদুল হালিম, বারইয়ারহাট কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ ইব্রাহীমসহ শতাধিক স-মিল মালিক ও কাঠব্যবসায়ীরা। একই অভিযোগে পৃথক ভাবে অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিশিষ্ট কাঠ ব্যবসায়ী পপুলার এক্সপোর্ট এন্ড ইমপোর্ট কোঃ প্রাঃ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরবিন্দ ভৌমিক।লিখিত অভিযোগে বলা হয়, কাঠ ব্যবসায়ীরা সরকারকে নির্ধারিত শুল্ক দিয়ে নিয়মিত কাঠ আমদানী করে থাকেন। বিদেশ থেকে গাছ সংগ্রহ করে দেশের বনজ সম্পদ রক্ষার কাজে সহযোগিতা করে আসছে। ফেনী বন বিভাগের কর্মকর্তা মোল্যা রেজাউল করিম, রেঞ্জার মোঃ হোসেন খান, চকিদার মোঃ আলম ও অফিস সহকারী শাহআলম মহাসড়কের লালপুলে দাঁড়িয়ে বিদেশ থেকে আমদদানীকৃত গাছের গাড়ী আটক করে চাঁদা দিতে বাধ্য করেন। একই সাথে জেলার স-মিল মালিকদের লাইন্সেস নবায়ন বাবত একলাখ টাকা ও নতুন লাইন্সেসের জন্য ২ লাখ, প্রতি স-মিল থেকে প্রতিমাসে বিশ হাজার টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য করে। গত শুক্রবার মোঃ হোসেন খান ও মোঃ আলম রাতে নোয়াখালীর বসুরহাটের এক্সপোর্ট এন্ড ইমপোর্ট কোঃ প্রাঃ লিমিটেডের আমদানিকৃত গাছের একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৬৮৪০) পরিত্যক্ত গাছের টুকরো নিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে চালক মাছুম ও হেলপার সফিককে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করে ট্রাকটি আটক করে ফেনী বনবিভাগ অফিসে নিয়ে আসেন। উক্ত কর্মকর্তারা গাড়ীর চালকের কাছে গাড়ি ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন। কাঠের মালিক দাবী করেন বাংলাদেশের কাঠের টিপিতে কোন রেঞ্জ কর্মকর্তার রি,টি,পি না করার বিধান থাকলেও বিদেশি গাছের বেলায় তা কেন প্রয়োজ্য হবেনা। একই সাথে এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের একটি রায়ের কপি দাখিল করলেও ফেনীর এ কর্মকর্তারা তা মানতে নারাজ। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে তাদের চাহিদা মত টাকা পরিশোধ করেন। সেই সাথে পরবর্তিতে ব্যবসা করার স্বার্থে উক্ত কর্মকর্তাদের সাথে মাসিক চুক্তি করে ব্যবসা করার প্রস্তাব দেন। চুক্তিতে রাজী না হওয়ায় উক্ত কর্মকর্তা টাকা গুলি ফেরত দিয়ে সন্ধ্যায় গাড়ী থেকে গাছের টুকরো গুলো নামিয়ে রেখে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা প্রস্তুতি নেন। একই কায়দায় গত ২ মাসে ৮টি বিদেশি কাঠের গাড়ী আটক করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পরে মুক্ত করে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ইতি মধ্যে ফেনী, নোয়াখালী ও বারইয়ারহাট কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েক বার লিখিত অভিযোগ করলেও উল্টো নানান হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে। ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজিম উদ্দিন অভিযোগ গ্রহনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আংশিক অভিযোগ রয়েছে। ইতি পুর্বে কোন ব্যক্তি অভিযোগ না করায় ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাদের সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তারা জানান, আইনসঙ্গত ভাবে তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের এসব অভিযোগে কোন কাজে আসবে না।