(২০ মে ২০১২) একসময় ভিক্টোরিয়ার হয়ে ঢাকায় ফুটবল খেলতেন। তারপর ভাগ্যানুসন্ধানে সৌদি আরব যাওয়া। সেই অধ্যায় শেষে দেশে ফিরে গঠন করলেন ফেনী সকার ক্লাব। কাল ফেনী স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে সেই গল্পই শোনালেন ফেনী সকারের উদ্যোক্তা গোলাম রব্বানি
ফেনী সকারের শুরুটা কীভাবে?
গোলাম রব্বানি: আমি ফুটবল ছেড়ে ১৯৮৪ সালে চলে যাই সৌদি আরবে। রিয়াদে অ্যারাবিয়ান ইনস্টিটিউট ফর ট্রেনিং সেন্টারে চাকরি করতাম। ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে দেখলাম, ফেনী হয়ে পড়েছে সন্ত্রাসের জনপদ। তরুণ প্রজন্ম বিপথে যাচ্ছে। তখনই মাথায় এল এই ক্লাবটা করার চিন্তা।
তার মানে ক্লাবটা আপনার উদ্যোগেই হয়েছিল?
রব্বানি: হ্যাঁ, তখন এটা আমার একার উদ্যোগেই হয়েছে। পরে পাশে পেয়েছি আরও অনেককে। এখন আমি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।
শুরুতে ক্লাবের অবকাঠামো কেমন ছিল?
রব্বানি: কোনো অবকাঠামোই ছিল না। ফেনী শহরে আমার বাসার ঠিকানা ১৩৭, নাজির রোড নামে প্রথম ক্লাবের প্যাড ছাপা হয়। ১৯৮৯ সালে ক্লাব ঘর নেওয়া হয় ফেনী শহরের সওদাগরপট্টিতে। ওই সময়ই ক্লাবের প্রথম কমিটি হয়েছিল। মনে পড়ছে, রিয়াদ থেকে ফেরার সময় আমি চারটা বল এনেছিলাম। সেই চারটা বল দিয়েই শুরু।
চারটি বল এনেছিলেন রিয়াদ থেকে। সেটা কি ক্লাব করার পরিকল্পনা মাথায় রেখে?
রব্বানি: বলগুলো এমনিই এনেছিলাম। ট্যাঙ্গো বল। রিয়াদের ওই প্রশিক্ষণ সেন্টারে খেলাধুলার প্রশিক্ষণ হতো। পাশেই ছিল সৌদি অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং স্পোর্টস মেডিসিন হাসপাতাল। ওখানে সৌদি আরবের বিখ্যাত ক্লাব আল হেলাল, সৌদি জাতীয় দল এবং বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় দল প্রশিক্ষণ নিত।
ওই পরিবেশটাই কি আপনার মাথায় ক্লাব করার বীজ বুনে দেয়?
রব্বানি: অনেকটা তাই। সৌদি আরবের ওই প্রশিক্ষণ সেন্টারের রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প পরিচালক ছিলাম আমি। সেই সূত্রে সৌদি জাতীয় দলের মাজেদ আবদুল্লাহ, সাইয়িদ আল ইরানসহ অনেককে প্রশিক্ষণ সেশনগুলোয় কাছ থেকে দেখতাম। আমি ১৯৮২ সালে ভিক্টোরিয়ায় খেলেছি। তাই ফুটবলের প্রতি একটা ভালোবাসা ছিল সব সময়ই।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০০৮ পর্যন্ত স্থানীয় লিগেই খেলেছে সকার। সাফল্য কেমন?
রব্বানি: ফেনী লিগে আমরা ২০০৮ পর্যন্ত আটবার চ্যাস্পিয়ন। দুবার রানার্সআপ। ২০০৮ সালে বাফুফে আয়োজিত ক্লাব কাপে রানার্সআপ হয়ে বাংলাদেশ লিগে সুযোগ পাই।
ফেনী সকার নামটা দিলেন কেন?
রব্বানি: আমেরিকায় ফুটবলকে সকার বলে। সকার নামটা আমিই দিয়েছি। এই প্রসঙ্গে স্মরণ করি আমাদের প্রথম সভাপতি মরহুম আবু তাহের, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজিবুল হক, যিনি বর্তমানে ফেনী পৌরসভার কাউন্সিলর ও সকার ক্লাবের সভাপতি এবং জামাল ব্রেডের শাহ আলম, কালাম, তৌহিদ, সাজু, ইফতেখার, পিন্টুসহ অনেককে। এ ক্লাবের প্রতিষ্ঠার পেছনে তাঁদের অনেক শ্রম আছে।
অনেক জেলা শহরের ক্লাবই হারিয়ে গেছে। ফেনী সকার শুধু টিকেই নেই, দেশের শীর্ষ পেশাদার লিগে খেলছে। কীভাবে এটা সম্ভব হলো?
রব্বানি: সবার চেষ্টাই ছিল মূল বিষয়। বিশেষ করে স্টারলাইন গ্রুপের চেয়ারম্যান সকারের সাবেক সভাপতি নিজামউদ্দিন এবং বর্তমান কোষাধ্যক্ষ নিজামউদ্দিনের আর্থিক সহযোগিতায় দল গঠন করা হতো আগে। এই ছোট জেলা শহরে প্রতিদিন প্রশিক্ষণ দেওয়া অনেক কষ্টসাধ্য ছিল।
প্রতিদিনই প্রশিক্ষণ হতো বলছেন। কে প্রশিক্ষণ দিতেন?
রব্বানি: আমি নিজেই প্রশিক্ষণ দিতাম। আমার স্ত্রী প্রতিদিন রাতে ছোলা ভিজিয়ে রাখত। সকালে ওগুলো মাঠে এনে খাওয়াতাম খেলোয়াড়দের। ফেনী কলেজের পাশে মরহুম বারেক ভাইয়ের হোটেলে নাশতাও করাতাম।
ফেনী সকার ক্লাব নিয়ে এখন আপনাদের পরিকল্পনা কী?
রব্বানি: এ বছরটা পেশাদার লিগে অবনমন ঠেকানোই এবার আমাদের মূল লক্ষ্য। টিকে গেলে আমাদের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান তাবিথ আউয়াল সাহেব আগামী দিনে ভালো দল করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সাক্ষাতকারটি দৈনিক প্রথম আলোর সৌজন্যে প্রাপ্ত

