(২৭ মে ২০১২) ফেনীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গ্রাহক ও জনহয়রানি দিন দিন বাড়ছে। নানা অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে চলছে ফেনীর পাসপোর্ট অফিস, আমাদের দেশের বেশির ভাগ লোক হজ্জ পালন, ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য ও বিভিন্ন কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমায়। আর এদের মধ্যে গরীব ও অশিক্ষিত লোকও রয়েছে। গরীব অসহায় থেকে শুরু করে কেউ এ হয়রানি থকে মুক্তি পাচ্ছে না। প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে চলছে ঘুষের রাজত্ব। ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাত্র ১০০ গজ অদূরে প্রকাশ্যে এ ধরনের ঘুষের রাজত্ব চললেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নিরব রয়েছে। সাধারন গ্রাহকগন দালাল ও ট্রাভেল এজেন্সির লোকদের কাছে ক্রমেই অসহায় হয়ে পড়ছে। জানা যায়, দেশের সকল ডিজিটাল পাসপোর্ট অফিসগুলো সরাসরি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালনা করলেও শুধুমাত্র ফেনী অফিস বেসামরিক লোক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পাগলা মিয়া সড়কের মুন্না টাওয়ারে স্থাপিত এই অফিসের কয়েকজন স্টাফ মিলে তৈরী করেন সিন্ডিকেট। এদের মধ্যে রয়েছে, অফিসের হিসাবরক্ষক জাহিদ, জসিম সহ ৬/৭জন। এবং এই সিন্ডিকেটের আদায়কৃত ঘুষের অংশ সকল স্টাফের পকেটে নির্ধারিত সময়ে পৌছে যায়। শুরু হয় সকলের মিলিত যৌথ অর্থ আদায়ের প্রতিযোগিতা। ডিজিটাল পাসপোর্ট এর আবেদন পত্র নতুন ও জটিল হওয়ায় অনেক গ্রাহকই তা পূরন করতে গিয়ে ভুল করে বা ঘষামাজা হয়। এছাড়া আবেদন পত্রের কোথাও লিখা নাই ফ্লুইড ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু গ্রাহকরা ফ্লুইড ব্যবহার করলেই তা ফিরিয়ে দিচ্ছেন তারা। এসকল ছোট খাট খুত ধরে গ্রাহকদের হয়রানি করছে স্টাফরা। কিন্তু তারেদ সিন্ডিকেট দালাল ও এজেন্সির লোক ফরম নিয়ে আসলে তা ফেরত পাঠায় না। ভুলভ্রান্তি ও অনেক কাটা ছেড়া থাকলে তা তারা নিজেরা সংশোধন করে। আর তার পরিবর্তে দালালরা প্রতি পাসপোর্টে ১ হাজার ১ শ টাকা সিন্ডিকেটকে ঘুষ দিতে হয়। দালালের মাধ্যমে যারা আসেন না তাদের ভোগান্তি ও হয়রানির শেষ থাকেনা। তাছাড়া পাসপোর্টের আবেদন পত্র বিনামূল্যে দেয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রাহকদের ফটোকপি করতে বলা হয়। পাসপোর্ট অফিসে ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর থেকে আসা শেখ ফরিদ জানান, তিনি এ নিয়ে ৬দিন এসেছেন। গত ৫ দিন ছোটখাট বিভিন্ন অজুহাতে তাকে ফেরত পাঠিয়েছে। উপস্থিত এমন অভিযোগ করেন, ছাগলনাইয়া থেকে আসা রকিব মজুমদার, সোনাগাজী থেকে আসা সোহেল মাহমুদ, আবুল হোসেনে, ধর্মপুর থেকে আসা রিয়াজ উদ্দিন অপু, ফেনী নাজির রোডের ব্যবসায়ী ইকবাল ফরহাদ, তাদের সকলের অভিযোগ একই।
তারা জানান, আবেদন পত্রে বিভিন্ন ভুল ধরলেও আবেদন পত্র পূরনের সঠিক অফিসের নিয়ম কোথাও লিখা নায়। এ ধরনের কোন নোটিশ কিংবা প্রচারনা কোথাও দেখা যায়নি। এছাড়া সোনালী ব্যাংক ফেনী শাখার কিছু স্টাফও এ ঘুষ বানিজ্যির সঙ্গে জড়িত। প্রতি পাসপোর্টে ৩০০০টাকা সরকারি ফি জমা দেয়ার কথা থাকলেও ক্যাশিয়ার ৩১১৫ টাকা আদায় করছে। কিন্তু ১১৫ টাকার কোন রসিদ দেয়া হয় না। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে এক সময় এক রকম উত্তর দেন। কোন সময় জেলা প্রশাসকের জন্য, কখনো ভ্যাটের কথা বলে আদায় করছে তারা। কিন্তু অতিরিক্ত টাকা ক্যাশিয়ার, গার্ড ও স্টাফরা ভাগ করে নেন বলে জানা যায়। বহিরাগত লোক ও গ্রাহকরা অবাধে যাতে প্রবশে করতে না পারে সেজন্য অফিসের প্রবেশ মুখে টেবিল দিয়ে বন্ধ রাখা হয়। দালালরা আসলে তাদেরকে টেবিল সরিয়ে ভেতরে প্রবশে করান। মাঝে মধ্যে গ্রাহকরা উত্তেজিত হলে তারা নিজেদের অফিসের লোক বলে দাবী করেন। এছাড়া আবেদন পত্র জমা নেয়ার সময় দুপুর ২ টায় শেষ হলে ১টা বাজেই বন্ধ করে দেন তারা। কিন্তু দালালরা ৪ টায় আসলেও তাদের ফরম জমা নেয়া হয়। ৪/৫দিন ঘুরে আবেদনপত্র ঠিকভাবে জমা দিলেও ডেলিভারীর সময় আবার হয়রানি করে। আর এসকল গাফেলতির কারনে অনেকের ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। জনসাধারন এ সকল হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
