(২৩ মে ২০১২) লোকসানের অজুহাতে প্রায় ১৫ বছর আগে ফেনী-বিলোনীয়া রেলপথ বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত রেলপথের কোটি কোটি টাকা মূল্যের রেললাইন, স্লিপার, কাঠের পাত, পাথর, রেল স্টেশনের অবকাঠামোর দরজা-জানালা চুরিসহ জবরদখল হয়ে যাচ্ছে। ফেনীর রেলপথ পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে গত কয়েক বছরে লাকসাম জিআরপি থানা, ফেনী, ফুলগাজী ও পরশুরাম থানায় এ ব্যাপারে অন্তত ৮টি চুরির মামলা করেছে।
ফেনী-বিলোনীয়া রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯২৯ সালে। দীর্ঘ ২৮ কিলোমিটার রেলপথে বন্ধুয়া দৌলতপুর, আনন্দপুর, পীরবঙ্ মুন্সির হাট, নতুন মুন্সির হাট, ফুলগাজী, চিথলিয়া, পরশুরাম ও বিলোনীয়াসহ ৮টি রেল স্টেশন স্থাপন করা হয়। একসময় রেলপথই ছিল এ অঞ্চলবাসীর যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। কিছু অসাধু রেল কর্মকর্তার অনৈতিকতার কারণে এই রুটটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ফলে ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট রেল কর্তৃপক্ষ ফেনী-বিলোনীয়া রেলপথ বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে এ রেলপথ পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। অযত্নে-অবহেলায় সবগুলো স্টেশনের বেহাল দশা। স্টেশনগুলোর অবকাঠামো এখন ধ্বংসের পথে। রেললাইনের পাশাপাশি পথের দুই পাশের গাছগুলোও কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।
ফুলগাজীর ষাটোধর্্ব সৈয়দ সাহেব জানান, দুর্বৃত্তরা রেলের লাইন তুলে পুলিশের সামনেই ট্রাকে করে নিয়ে যায়। মুন্সির হাটের আবুল হোসেন জানান, দুর্বৃত্তরা রেলের পাত, শ্লিপার তো প্রায় নিয়েই গেছে এখন রেললাইনের পাশের গাছগুলোও কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
রেলের ঊধর্্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী, মো. রশিদ আহমেদ জাহাঙ্গীর জানান, গত কয়েক বছরে রেলের প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ বেহাত হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় ৮টি মামলাও হয়েছে। তিনি জানান, জিআরপি বলেন, পরিত্যক্ত স্টেশন বা রেললাইন জিআরপির আওতায় নেই এবং ফুলগাজী ও পরশুরাম থানা বলেন রেলের সম্পত্তি বেঙ্গলের আওতায় নেই। তিনি আরও জানান, পরিত্যক্ত লাইনটি পুনরায় চালু করার জন্য বা ভেঙে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রয়ের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে।

