(০৭ মে ২০১২) টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে। দীর্ঘদিন ধরে ফাইলে ধুলোবালি পড়ে থাকলেও ধরতে নারাজ কর্মকর্তারা। এটি শুধু গত বৃহস্পতিবার নয়, নিত্যদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। সরেজমিন অফিস ঘুরে দেখা যায় এসব অনিয়মের চিত্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সমীক্ষা ফি দিয়ে আবেদন করা গ্রাহক সেবার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় রিসিপশান বিভাগে। সেখানে কিছুই জানা যায় না বলে পাঠিয়ে দেয়া হয় তাজুল নামের এক কর্মকর্তার কাছে। তিনি সবসময় কাজের চেয়ে ব্যস্ততা দেখান বেশি। তিনিও ফাইলের অবস্থান জানাতে নারাজ। তাজুলসহ কতিপয় কর্মকর্তাদের ‘উপরি টাকা’ দিয়ে টেনেটুনে ফাইল পাঠানো হয় উপরে (এজিএম ইঞ্জি: বিভাগে)। এজিএম ইঞ্জিনিয়ার ফাইলে স্বাক্ষর কিংবা কাউকে দায়িত্ব দিলেও কাজ হয়না সময়মত। ফাইলও আটকে থাকে মাসের পর মাস। কয়েক মাস গেলেই বলা হয় নতুন করে আবেদন করতে। পুরনো ফাইল খুঁজে পাওয়া কঠিন বলে চাপ জানিয়ে দেন তারা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ৩‘শ টাকা সমীক্ষা ফি দিয়ে ২০১০ সালের ১৮ মার্চ পোলস্থানান্তরের জন্য আবেদন করেন এক গ্রাহক (নিবন্ধন নং- ১০০৬৮) নিবন্ধন ফর্মে পরবর্তী আগমনের তারিখ দেয়া হয় ১৭ই এপ্রিল। কিন্তু আজ নয় কাল করে দুটি বছর কাটিয়ে দিলেন তারা। ২০১২ সালে যোগাযোগ করলে বলা হয় ওই ফাইলটি আর খুঁজে পাওয়া যাবে না, ফাইলটির জন্য কষ্ট করেও লাভ নেই। নতুন করে আবেদন করুন। পুনরায় আবেদন করেন ভুক্তভোগী ওই গ্রাহক। চলতি সালের ৫ এপ্রিল জমা দেয় পোল স্থানান্তরের নির্দিষ্ট পরিমান টাকা। ওই ফাইলটির অগ্রগতি জানতে পরবর্তী তারিখ ৪ এপ্রিলে আসতে বলা হয়। কিন্তু গত ৩ মে বৃহস্পতিবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে দেখা যায় সেই পুরনো চিত্র। ফাইলটি চাপা পড়ে আছে এজিএম ইঞ্জি: বিভাগের কর্মকর্তা হাবিবের টেবিলে। এখনো ওই ফাইলের ওয়ার্ক অর্ডার হয়নি বলে চাপ জানিয়ে দেন কতিপয় কর্মকর্তা হাবিব। তিনিও একই কথা বলে হতভাগ্য ওই গ্রাহককে তাড়িয়ে দেন। এদিকে সোনাগাজী থেকে প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরে ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে আসছেন বয়োবৃদ্ধ এক গ্রাহক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রাহক বলেন, আমি প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরেই আসছি ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, হাবিব সাহেব নামের এক কর্মকর্তা ফাইল হস্তান্তর করেন পাশের চেয়ারে কর্মরত জাকের নামের আরেক কর্মকর্তার কাছে। কিন্তু তাকে পাওয়া দুস্কর। ঠিকমত অফিসও করেননা তিনি। ঘন্টা দুয়েক বসার পর ওই বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিকে চলে যেতে বলে হাবিব। ওই বৃদ্ধ এই প্রতিবেদককে বলেন, হাবিব সাহেব বলেছেন টাকা দিয়ে হলেও কাজটা আদায় করে নিতে। হাবিব সাহেব ‘দম্ভোক্তি’ করে বলেন, এটি ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না এখানে। আপনারা টাকা দেন না, তাই কাজও হয়না। এভাবে অহরহ হয়রানীর শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। এক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, কোন বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে আসলে কর্মকর্তারা একজন আরেকজনকে দেখিয়ে দিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যান। গ্রাহকরা অসহায় হয়ে এই টেবিল ওই টেবিল ঘুরোঘুরি করে অবশেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে যান। অভিযোগগুলো জানাতে জিএম’র সাথে দেখা করতে চাইলে দায়িত্বরত পিয়ন দেখা করতে দেন না বলেও অভিযোগ করেন এক গ্রাহক। এ ব্যপারে ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের জিএম’র মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

