ফেনী সীমান্তে মাদকের মহোৎসব

(১৬ মে ২০১২) ফেনীতে বানের পানির মত আসছে মাদক। ফেনীর সীমান্ত অঞ্চলগুলো দিয়ে প্রতিদিন প্রবেশ করছে কোটি টাকার মাদকদ্রব্য। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অল্প সময়ে চোরা চালান চক্ররা হয়ে যাচ্ছে কোটিপতি আর যুব সমাজ হয়ে যাচ্ছে ধ্বংস। প্রতিদিন কোটি টাকার মাদক ফেনীতে প্রবেশ করলেও পুলিশ, বিজিবি, ডিবিসহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা নাম মাত্র অভিযান পরিচালনা করে। আবার অন্যদের যোগসাজস ও নিস্ক্রিয়তার কারনে মাদক চোরা চালান চক্ররা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অনেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলেও মামলার দুর্বলতা, দুর্বল স্বাক্ষী ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের তদবিরের কারনে ছাড়া পেয়ে আবার অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ফেনী চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত অঞ্চলের, ফেনী চৌদ্দগ্রাম বাতিসা, মোহাম্মদ আলী, পরশুরাম, বিলোনীয়া, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, করের হাট, রামগড় অঞ্চল দিয়ে ফেন্সিডিল, বিয়ার, হিরোইন, গাঁজা, আফিম, কাশির ট্যাবলেট, ইয়াবাসহ ইত্যাদি নেশারদ্রব্যাদি ফেনীতে প্রবেশ করে। এসব অঞ্চল গুলোতে মাদক চক্ররা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। তাদের এক এক গ্রুপের এক এক নাম। মাদক সেবিরা নিজেদের পকেটে, গায়ে, প্যান্ট, ব্যাল্ট ইত্যাদিতে শরীরের সাথে বেঁধে অনেক সময় মাদক সরবরাহ করে। এছাড়া হুন্ডা, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক, অনেক সময় মহিলা ও শিশুদের মাধ্যমে মাদক বিভিন্নস্থানে পৌঁছে দিয়ে আসে। ফেনীর বিভিন্ন সিন্ডিকেট সরাসরি এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক পাচার করে অল্প সময়ে কোটিপতি হয়েছে মোহাম্মদ আলী এলাকার সুন্দরপুর গ্রামের দুলাল। এমন কোন কাজ নেই যাহা দুলাল করছেনা। পুলিশ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ মানি দিয়ে অবাধে বিক্রি করছে ফেন্সিডিল, গাঁজা, হিরোইন, নারীসহ ভারতীয় পন্য। স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করে এলাকায় তরুণ সমাজকে নেশা ও অপরাধ জগতে নিয়ে যাচ্ছে এ দুলাল। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেও কোন প্রতিকার নেয়না পুলিশ। প্রতিদিন শহর গ্রাম এলাকা থেকে অসংখ্য যুব সমাজ মোটরসাইকেল নিয়ে সীমান্ত এলাকা ভীড় জমাচ্ছে মাদকের জন্য। আবার অনেকের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে ফেন্সিডিল। ফেনী শহরের সহদেব পুর, মাষ্টার পাড়া, পেট্রো বাংলা, দাউদপুর, রামপুর, মহিপাল, হাজারী সড়ক, একাডেমী, রেল স্টেশন, সদর হাসপাতালসহ শহরে শতাধিক মাদকের স্পট রয়েছে। এসব স্পটে পাওয়া যাচ্ছে ফেন্সিডিল, হিরোইনসহ নেশা জাতীয়দ্রব্য। ইতিমধ্যে ফেনীতে ইয়াবার ব্যবহার বেড়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে মাসোয়ারা দিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা শহরে অবাধে বিক্রি করছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও আইনের ফাঁক-ফোকরে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় মাদক সিন্ডিকেটের চোরাচালানকারী ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহীনির সদস্যরা তৎপর হলে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার ও যুবসমাজ রেহাই পাবে বলে সচেতন ফেনীবাসী মনে করে।