সোনাগাজীতে বোরো চাষে খরচের তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় আগ্রহ হারাচ্ছে প্রান্তিক চাষীরা

(২৫ এপ্রিল ২০১২) ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা চলতি মৌসুমী বোরো আবাদ গত বছরের চেয়ে তুলনায় অনেকাংশে কমে গেছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় কৃষকরা সঠিক মুল্য না পাওয়ায় বোরো চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এ ছাড়া সময় মত সেচ দিতে না পারায় ফলনও ভালো হচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকায় পানির অভাবে মাঠঘাট ফেঁটে চৌচির হয়ে গেছে। ফলে বোরো ছেড়ে রবি শস্য চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন প্রান্তিক চাষীরা।
উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত বছরে উপজেলায় ১ হাজার ১২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা কমে ৯২০ হেক্টরে নেমে এসেছে। উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের কৃষক সমর দাস জানান, এক একর জমিতে বোরে লাগিয়ে এখন বেকাদায় পড়ে আছি। খালে পানি নেই, বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং এর কারণে এবং জ্বালানি তেলের মুল্য বৃদ্ধি হওয়ায় সেচ যন্ত্রও চলছে না। জমিতে ঠিক মত সেচ দিতে না পারলে ফলন ও ভাল হয় না। এ ছাড়া শ্রমিকের মজুরী গত বছরের তুলনায় দেড়গুণ বেড়ে গেছে। অথচ উৎপাদিত ফসলের দাম কম। চরচান্দিয়া ইউনিয়নের কৃষক আবুল খায়ের জানান, তিনি গত বছর বোরো উৎপাদন করে লাভের মুখ দেখেননি। তাই এবার মসুর ও ঢেঁড়স চাষ করেছে। ফলনও ভাল হয়েছে। এতে সময়ও কম লাগে, সার ও পানি লাগে অনেকাংশে কম। ফলে উৎপাদন খরচও অনেকটা কম। জানা যায়, গত বছর নবাবপুর ইউনিয়নে বোরো চাষ হয়েছিল ৯০ হেক্টর, চলতি বছর বোরো চাষ হয়েছে ২০ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া চরমজলিশপুর ইউপিতে ১২০ হেক্টর, বগাদানা ইউপিতে ১৭০ হেক্টর, মঙ্গলকান্দি ইউপি ২৩৩ হেক্টর, মতিগঞ্জ ইউপিতে ৬০ হেক্টর চরদরবেশ ইউপিতে ৪৭ হেক্টর, চরচান্দিয়া ইউপিতে ১১০ হেক্টর, সোনাগাজী ইউপিতে ০৫ হেক্টর, আমিরাবাদ ইউপিতে ১৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আকরাম উদ্দিন জানান, বোরো উৎপাদন কমে যাওয়ায় কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠিও দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, বোরো উৎপাদন কমে যাচ্ছে ৬/৭টি কারণে। ঘনঘন লোডশেডিং, ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি, সেচের অনিশ্চয়তা, মৌসুমী শ্রমিকের স্বল্পতা, বেশি মজুরী, এবং উৎপাদিত ফসলের কম মূল্য ও বিভিন্ন এলাকায় ডিপ টিউবওয়েল না থাকা ইত্যাদি।
চরচান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন খোকন জানান, তার ইউনিয়নে প্রতি বারই উপজেলার সব চেয়ে বেশি বোরো ও রবিশস্য উৎপাদন করত কৃষকরা। কিন্তু ইউনিয়নের দক্ষিণে বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার ফলে সহসায় লবনাক্ত পানি জমিতে প্রবেশ করে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। ইউনিয়নের কোথাও ডিপ টিউবওয়েল না থাকা এমনকি খালগুলোতে পানির সংকট সহ বিদ্যুতের বেশ কিছু সমস্যার কারণে আমার ইউনিয়নের কৃষকরা বোরো চাষ থেকে অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল্লাহ নুরী জানান, বোরো চাষীদের উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং। বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিং এর কারণে পূরো উপজেলার জনগণের মাঝে চরম দূর্ভোগ বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট কয়েক দফা চিঠি দিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি। তার পরও জনগণকে বোরো চাষে উদ্ভুদ্ধ করে বিভন্ন প্রশিক্ষণ ও নানান ভাবে সহযোগিতা করে দিয়ে আসছি।