(২৩ এপ্রিল ২০১২) স্ত্রী ফারহানা ইয়াছমিন মিলিকে (৩০) গলাটিপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা শেষে লাশ ৪টুকরা করে গুম করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধৃত ঘাতক স্বামী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জুয়েল (৩৫) বিয়ের দিন থেকেই কাবিনে ভুল নাম ঠিকানা ব্যবহার করে প্রতারণা শুরু করে আসছিল। মিলির খুনের ঘটনা শুনে আজ সোমবার সকালে বাগেরহাট থেকে ফেনীর ছাগলনাইয়া থানায় আসে মিলির ছোট ভাই এয়াছিন শেখ, ভাতিজা মাসুম শেখ, চাচাত ভাই জুলফিকার শেখ ও ভগ্নিপতি আবদুল আজিজ শেখ। ছোট ভাই এয়াছিন শেখ মিলির কাবিন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আকুল চন্দ্র বিশ্বাসের কাছে উপস্থাপন করলে প্রতারণার ঘটনাটি ধরা পড়ে। বিয়ের কাবিন করার সময় নামের জায়গায় সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জুয়েলের স্থলে সে লিখেছে মো. সাইদুল ওসমান চৌধুরী গ্রামের জায়গায় দক্ষিণ বল্লভপুরের স্থলে সে লিখেছে দক্ষিণ জশপুর। মিলির চাচাত ভাই জুলফিকার শেখ বলেন, ঘাতক জুয়েল শুরু থেকেই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। হত্যা মামলার পাশাপাশি আমরা তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাও করবো। জুলফিকার জানান, বাগেরহাটের রামপালের ঝনঝনিয়া গ্রামে মিলির বাবার বাড়ীতে চলছে শোকের মাতম। বৃদ্ধ মা মনোয়ারা বেগম বাকরুদ্ধ। ছোট বোন লিলিসহ আত্মীয় স্বজন এবং এলাকাবাসী মেনে নিতে পারছেনা এই খুনের ঘটনাকে। মিলি ছোট বেলায় তার পিতা মহিউদ্দিন শেখকে হারায়। রামপাল কলেজ থেকে মিলি ডিগ্রী পাস করে। ডিগ্রীতে পড়ার সময় মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্রধরে প্রেমের মাধ্যমে ২০০৮ সালের ৯আগষ্ট খুলনার বাগমারা প্রধান সড়ক কাজী অফিসে ১ লাখ ১টাকা দেনমোহরে মিলি ও জুয়েলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর জুয়েল-মিলি দম্পতি চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানার নিউমুরিং আবাসিক এলাকায় ৭নং রোডের জনৈক ফারুক আহমদের বাড়ীর দ্বিতীয় তলায় ৯ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকত। মিলি ছিলেন জুয়েলের প্রথম স্ত্রী। ১বছর পূর্বে মিলির অজান্তে জুয়েল চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের ছাত্রী সালমার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তুলে গোপনে তাকে বিয়ে করে। তার দ্বিতীয় স্ত্রীও তিনমাসের অন্তঃসত্ত্বা। দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর জুয়েল ও মিলির দাম্পত্য জীবনে কলহ দেখা দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল পুলিশকে জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে সে মিলিকে হত্যা করে। মিলি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামের মহিউদ্দিন শেখের কন্যা। আর জুয়েল ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বল্লভপুর গ্রামের ওসমান গণি চৌধুরী প্রকাশ মন্তু ড্রাইভারের ছেলে। জানাযায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ২মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফারহানা ইয়াছমিন মিলিকে (৩০) গলাটিপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর লাশ চার টুকরা করে ঘাতক স্বামী জুয়েল। পরে সে মৃতদেহের নিম্নাংশের দুই টুকরা বাসার ফ্রিজে ভরে রাখে। দুইদিন পর উপরের অংশের বাকী দুই টুকরা প্লাস্টিক মুড়িয়ে ককসীটের ২টি মাছের কার্টুনে প্যাকেট করে গ্রামের বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। রাত পৌনে ৯টায় ফেনী নদীর শুভপুর ব্রীজ এলাকায় ছাগলনাইয়া থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এরপর তার স্বীকারোক্তি মতে লাশের বাকী দুই টুকরা চট্টগ্রামের বাসার ফ্রিজ থেকে বন্দর থানার পুলিশ উদ্ধার করে। ঘাতক জুয়েল হত্যার দায় স্বীকার করেছে। ছাগলনাইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাইনুল আবছার জানান, জুয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদে সে বলে মিলির ভাই দেড় মাস আগে দুইটি কার্টুনে ভরে মাছ এনেছিল। মিলির লাশকে চার টুকরা করে উপরের অংশের দুই টুকরা ওই মাছের কার্টুনে বেঁেধ গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে যাচ্ছিলাম দাফন করার জন্য। বাকী দুই টুকরা বাসায় ফ্রিজে রেখেছি। গত রবিবার ছাগলনাইয়ায় উদ্ধারকৃত লাশের দুই টুকরা ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে ফেনী পৌরসভার উদ্যোগে দাফন করা হয় এবং ঘাতক জুয়েলকে চট্টগ্রাম বন্দর থানার পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামে উদ্ধারকৃত লাশের দুই টুকরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে আঞ্জুুমানে মফিদুল ইসলামের উদ্যোগে দাফন করা হয়।

