ফেনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পদ সৃষ্টি ছাড়াই দু’শিফট চালু, শিক্ষক সংকট

(২০ সেপ্টেম্বর ২০১১) সাড়ে তিন বছর আগে সরকারী সিদ্ধান্তে ফেনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রভাতী ও দিশা শাখা নামে দু’শিফট ক্লাস চালু করা হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রভাতী শাখার (দ্বিতীয় শিফ্ট) জন্য শিক্ষকের কোন পদ সৃষ্টি করা হয়নি। ফলে আগের এক পালার শিক্ষক দিয়েই চলছে দুই পালার ক্লাস। এতে শিক্ষকের তুলনায় শিক্ষার্থী বেশী হওয়ায় পাঠদানে বিঘ্ন সৃষ্ঠি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের দুই পালায় শ্রেণী কক্ষে পাঠদানের জন্য শিক্ষক প্রয়োজন ৫৩ জন। কিন্তু বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ ২৬ জন শিক্ষক রয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট চলছে।
বিদ্যালয় সুত্র জানায়, ফেনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯১০ সালে। ফেনী জেলায় মেয়েদের জন্য এটি সব চেয়ে পুরানো বিদ্যালয়। লেখাপড়া এবং ফলাফলেও সব সময় ভাল। ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকারের সময় ফেনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং চট্টগ্রামের পাঁচটি বিদ্যালয়সহ মোট সাতটি সরকারী বিদ্যালয়ে প্রভাতী ও দিবা শাখার দুই পালা ক্লাস চালু করা হয়।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে দেশের আরও ৮০টি সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই পালা ক্লাস চালু করা হয় এবং ওই সব বিদ্যালয়ের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন শিক্ষকের পদও সৃষ্টি করে এবং ওই সব বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুই পালায় ক্লাস চালু করা ফেনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সহ সাতটি বিদ্যালয়ে এখনো শিক্ষকের পদই সৃষ্টি করা হয়নি। ফলে বর্তমানে ফেনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ২৬ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ছাড়া প্রভাতী পালায় ১২ জন এবং দিবা পালায় ১৩ শিক্ষক শ্রেণী কক্ষে পাঠদান করছে। ফেনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে তৃতীয় শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ১৫৫০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, প্রভাতী ও দিবা শাখার প্রতিটি সেকশনে ৮০ জন করে শিক্ষার্থী ক্লাস করার কথা থাকলেও অষ্টম শ্রেণীর একটি সেকশনে ১২৮ জন শিক্ষার্থীকে ক্লাস করতে হয় গাদাগাদি করে। তাছাড়া আরও কয়েকটি সেকশনে শতাধিক শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হয়। এসব শ্রেণী কক্ষের পেছনের সারিতে বসা শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের পাঠদানের শব্দ শুনতে পায়না। ফলে সামনের সারিতে বসার প্রতিযোগীতায় অনেকেই ক্লাস শুরুর অনেক আগেই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়।
একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, এক সাথে গাদাগাদি করে ক্লাসে পেছনের সীটে বসে স্যারদের কথা শোনা যায়না। পড়া বুঝতে কষ্ট হয়। কাজেই প্রাইভেট পড়ে ওই সব পড়া শেষ করতে হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত নাথ জানান,বিদ্যালয়ের প্রভাতী শাখার শ্রেণী কার্যক্রম শুরু হয় সকাল সাড়ে সাতটায়। শেষ হয় দুপুর ১২টায়। দিবা শাখার ক্লাশ চলে দুপুর ১২ট থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত। তিনি বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতার কথা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ে দুই পালা চালু করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু সাড়ে তিন বছরেরও দ্বিতীয় পালার জন্য শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। শিক্ষকের পদ সৃষ্টির জন্য ইতিমধ্যে নানা ভাবে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে চিঠি চালাচালি করা হয়েছে এবং হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে পদ সৃষ্টির জন্য সংস্থাপন মন্ত্রনালয়ে ফাইল পাঠানো হয়। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময় যে সকল বিদ্যালয়ে দুই পালা চালু করা হয়েছে সে সকল বিদ্যালয়ের জন্য নতুন শিক্ষকের পদও সৃষ্টি করা হয়েছে। অথচ তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুই পালা চালু হওয়া বিদ্যালয়গুলির জন্য কোন শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হয়নি। ফলে এক পালার শিক্ষক দিয়ে দুই পালার শ্রেণী কক্ষে পাঠদান করা হচ্ছে। এটা শিক্ষকদের জন্যও কষ্টকর। তারপরও শিক্ষকরা কষ্ট করে শ্রেণী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।