(১০ সেপ্টেম্বর ২০১১) ফেনী বিদ্যুৎ বিভাগের ১১ কেভি গ্রিড লাইনের কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ডের ফলে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ফেনী ও নোয়াখালীর কিছু অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।বৃহস্পতিবার রাতে কন্ট্রোল রুমের ব্রেকার বাস বাড়ে একটি ইঁদুর পড়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।ফেনী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান,রাত পৌনে দুটোর দিকে মহিপাল গ্রিড লাইনের কন্ট্রোল রুমের ব্রেকার বাস বাড়ে একটি ইঁদুর ঢুকে পড়ার পর প্রচণ্ড শব্দ করে কন্ট্রোল রুমে আগুন ধরে যায়। এতে ১১ হাজার ভোল্টের একটি ব্রেকার সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
এ সময় কন্ট্রোল রুমে কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন সঞ্চালন লাইনের সুইচ বন্ধ করে নিজেরা রুম থেকে বের হয়ে আসেন। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর ফেনী অফিসের দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত তিনটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
দুর্ঘটনার ফলে এ গ্রিড লাইন থেকে সরবরাহকৃত ফেনী ও নোয়াখালীর অঞ্চলের ৯ ফিডারের বিদ্যুৎ সরবরাহ অচল হয়ে পড়ে। রাতেই নোয়াখালী থেকে বিদ্যুতের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফেনী এসে পৌঁছেন। ঢাকা থেকে ভোরে এসে পৌঁছেন প্রধান প্রকৌশলী রইস উদ্দিন সরকার। পোড়া যন্ত্রপাতি সরানোর পর ব্রেকার পুনঃ স্থাপনের কাজ শুরু হয়। সকাল সাতটার দিকে তিনটি ফিডারের বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়। বিকাল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত সাতটি ফিডারের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় বলে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে। রাত পৌনে নয়টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দোস্ত টেক্সটাইল মিল ও শহরের এসএসকে সড়ক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়নি।
নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান,রাত ১১টার মধ্যে অবশিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া হবে।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে ফেনী বিসিক শিল্পনগরী, দোস্ত টেক্সটাইল মিলসহ বেশির ভাগ কল-কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বাড়ি ঘরে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই গরমের কারণে নির্ঘুম রাত কাটান। ফেনী শহরের বাসিন্দারা সকাল থেকেই বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ,বারবার যোগাযোগ করার পরও বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সরবরাহের সঠিক সময় জানাতে পারেনি। ফলে বিদ্যুৎ আসবে কি না এই বিভ্রান্তিতে পড়ে যান সাধারণ মানুষ।
শহরের ব্যবসায়ীরা জানান,বিকেল পাঁচটা নাগাদ শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। প্রায় ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

