(১৪ সেপ্টেম্বর ২০১১) ফেনী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই চলতি তফসিলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। একদিকে প্রতিদ্বন্ধী দুইটি প্যানেল প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে নির্বাচন ঠেকাতে পর্দার আড়ালে চলছে নানা কূটকৌশল। এসব নিয়ে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা-সমালোচনায় সরব সংশ্লিষ্ট মহল। সাবেক সভাপতি হাজী আলাউদ্দিন ও তার ভাই বর্তমান সভাপতি জামাল উদ্দিন নির্বাচনে অংশ না নেয়া, আরেক সাবেক সভাপতি শেখ নুরুল আলমের প্রার্থীতা বাতিল সবশেষে শহর ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আমিনুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আলম প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোকে শুভ লক্ষণ বলে মনে করছে না পর্যবেক্ষক মহল। হাজী আলাউদ্দিন ও জামাল উদ্দিন নির্বাচনে অংশ না নিয়ে শেখ নুরুল আলমকে সমর্থন জানালেও অনেকেই মনে করছেন নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই দুইভাই মনোনয়পত্র নিয়েও জমা দেননি। অনুসন্ধানে জানাে গেছে, বর্তমান সভাপতি জামাল উদ্দিনের অমতে গঠিত নির্বাচন পরিষদের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি জামাল উদ্দিন। তাই শুরু থেকে নির্বাচনের প্রতি তার অনাগ্রহ সবার নিকট স্পষ্ট। একইভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজে সরাসরি প্রতিদ্বন্ধীতায় না থেকে নিকটাত্মীয় সাবেক সভাপতি শেখ নুরুল আলমকে সমর্থন জানান হাজী আলাউদ্দিন। অবশ্য তিনি প্রার্থী না হয়ে নুরুল আলম প্যানেলের পক্ষে শুরু থেকেই আপ্রাণ কাজ করে যাচ্ছেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। নুরুল আলমের অবর্তমানে হাজী আলাউদ্দিনের দিক নির্দেশনায় কাজ করেছে প্যানেলের প্রার্থীরা। এমনকি প্যানেল গঠনে তিনি একনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তবে নুরুল আলমের প্রার্থীতা বাতিলের পর সংকট আরো বেড়ে যায়। বিকল্প হিসেবে তার ছেলে শেখ নুর মোহাম্মদ আজগরকে প্যানেল নেতা করার গুঞ্জন থাকলেও সেক্ষেত্রে প্যানেলের অপরাপর প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের বিরূপ মনোভাবের কারণে থমকে যায় নুরুল আলম-আলাউদ্দিন সমর্থিত প্যানেল। তারা শেখ নুরুল আলমের প্রার্থীতা ফিরে পেতে লিগ্যাল নোটিশ করেও কোন ফল না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। আজকালের মধ্যে শেখ নুরুল আলম আদালতে মামলা দায়ের করবেন বলে তার বিভিন্ন ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে। তারা মনে করছে সম্প্রতি ফেনী কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের নির্বাচনের মতো মামলা হলে চেম্বার নির্বাচনও আদালত স্থগিতাদেশ দিতে পারে। নুরুল আলম ছাড়াও আরও একাধিক ব্যক্তি মামলা করতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। অন্যদিকে চেম্বার সভাপতি জামাল উদ্দিনকে দেয়া শো-কজ নোটিশের জবাবে এবারও সন্তুষ্ট হতে পারেনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট্ একটি সূত্র জানায়, জামালউদ্দিনকে অপসারণ করে অল্প সময়ের মধ্যে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হবে। এ ব্যপারে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলেও ওই সূত্র জানায়। প্রশাসক আসলে চলতি তফসিলে নির্বাচন স্থগিত করে পুনরায় তফসিল এমনকি ভোটার তালিকাও সংশোধন হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। সরকারী দলের একটি অংশ চেম্বার নির্বাচন স্থগিত করে প্রশাসক হতে মন্ত্রাণালয়ে চেষ্টা তদ্বির করছে বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ সমর্থিত এক ব্যবসায়ী এগিয়ে রয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। সরকারী দলের একটি প্রভাবশালী অংশ নির্বাচন বিলম্বিত করে পায়দা হাসিলের ফন্দি করছে বলেও জনশ্র“তি রয়েছে। ফেনীর ব্যবসায়ী মহলে গত ক’দিন ধরেই এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এদিকে শুরুতে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল রকিব কাজমী সমর্থিত প্যানেল জোরালোভাবে মাঠে নামলেও এসব অনিশ্চয়তার কারণে গত দুইএকদিন তাদের কর্মকান্ডে কিছুটা ভাটা পড়েছ্।ে অবশ্য কাজমী সমর্থকদের দাবী প্যানেল নেতা বিদেশে থাকলেও তারা যথারীতি ভোটারদের সাথে গণসংযোগ করে চলেছেন। তবে নির্বাচন হবে কি হবে না এ সন্দেহ সংশয়ের কারণে ভোটারদের মাঝেও অস্থিরতা রয়েছে।

