ফেনী নদীর পানি বন্টন চুক্তি না হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি

(৮ সেপ্টেম্বর ২০১১) ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দুই দিনের সফরে বাংলাদেশ ঘুরে গেলেন। বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে স্বারক চুক্তি হলেও চুক্তি হয়নি বহুল আলোচিত তিস্তা পানি বন্টন চুক্তি ও ফেনী নদীর পানি বন্টন চুক্তি। ভারত সরকার তিস্তা চুক্তি না করায় ফেনী নদীর পানি বন্টন চুক্তি হয়নি বলে বিশ্বস্তসুত্রে জানা গেছে। এ দিকে ফেনী নদীর পানি বন্টন চুক্তি না হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাষ ফেলেছেন চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলার লাখ লাখ মানুষ। গতকাল মিরসরাইয়ের আমলীঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যারা আতংকে ছিল এখন তাদের চোখে মুখে খুশির জোয়ার বইছে। আমলীঘাট এলাকার বাসিন্দা, শিক্ষক হেদায়েত উল্লাহ, আব্দুল মান্নান, নিজাম উদ্দিন, সিরাজ মিয়া বলেন, আমরা আজ খুশিতে আত্মহারা। কারণ ফেনী নদীর পানি বন্টন চুক্তি হয়নি। এ চুক্তি হলে আমাদেরকে না খেযে মরতে হত। অবশ্যই এখনো শংকা কাটেনি বলে দাবী করেন ইতিহাসবিধ আহম্মদ মমতাজ। তিনি বলেন, আমি এখনো শংকায় রয়েছি ফেনী নদীর পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে। কারণ এখন ভারতীয়রা নদীতে বাঁধের জন্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে ব্লক তৈরি করে চলছে। জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ফেনী নদীর পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুন্ড ও ফেনী জেলার মানুষের মধ্যে আগ্রহের পাশাপাশি পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে ব্যপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। যদি পানি চুক্তি হত তাহলে চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুন্ড, দেশের ষষ্ঠ মুহুরী প্রকল্প, ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী, ফুলগাজী, পরশুরাম মরু ভূমিতে পরিনত হত বলে আশংকা করেন এলাকাবাসী। পানি প্রবাহ কম থাকায় ও শুষ্ক মৌসুমে চাহিদামত পানির অভাবে চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলার লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে ইরি সেচ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও স্থানীয়দের আশংকা ছিল। গত কয়েকদিন ধরে মিরসরাইজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে একটি খবর- বাংলাদেশ সীমান্তের ফেনী নদীতে পুকুর খনন করছে ভারত। মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত এ খবরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ওই সীমান্ত এলাকা ঘুরে এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে নানা তথ্য। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যেও আগরতলা জেলার উপেন্দ্রনগর ও মিরসরাইয়ের আমলীঘাট সীমান্তে এখন চলছিল উত্তেজনা। বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের পুকুর খননের খবরটি ছিল স্রেফ গুজব। কিন্তু ফেনী নদী থেকে বালু উত্তোলন করে সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর পারে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ভারতের ব্লক তৈরির দৃশ্য চোখে পড়েছে। দল-মত নির্বিশেষে এলাকার সকল স্তরের মানুষের একটাই প্রশ্ন- চুক্তিতে কি আছে? এ জন্য মানব বন্ধন ও সমাবেশ করে এলাকাবসী। জানা গেছে, আমলীঘাট সীমান্তের শত কিলোমিটারেরও বেশি পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পর্বত শ্রেণীতে উৎপন্ন দীর্ঘ এ নদীটি বিভক্ত করেছে দুই দেশকে। উভয় দেশের ছোট-বড় খাল-ছড়া মিলিত হয়েছে এ নদীতে। আর এ নদীটি সর্বশেষে মিলেছে বঙ্গোপসাগরে। এ নদীর পানির ওপর নির্ভর করে আছে কয়েক লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা। ভারত এ নদীর পানি নিয়ে যেত তাহলে দেশের ষষ্ঠ বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মুহুরী প্রকল্প ছাড়াও লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকীর মুখে পড়ত। নদীতে বাঁধ দিতে অনেকটা প্রস্তুতিও ছিল ভারতের।