পর্যটকদের ঢল নেমেছে মহামায়া মুহুরী প্রজেক্ট ও বাওয়াছড়ায়

(৪ সেচ্টেম্বর ২০১১)পর্যটকদের পদচারনায় ভরে উঠেছে মিরসরাই ও আশপাশের এলাকার পর্যটন এলাকাগুলো। ঈদের দিন থেকে শুরু হয়েছে পর্যটকদের ঢল। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া পর্যটন এলাকায় লেকের নীলাভ জলরাশিতে দাপাদাপি, ডিঙ্গী, ইঞ্জিন চালিত বোটে লেকের অপার দৃশ্য দর্শন, হৈচৈ আর ছুটোছুটিতে লেক এলাকা উৎসব মঞ্চে পরিনত হয়েছে। সব বয়সের নারী পুরুষ শিশু, তরুন তরুনী এখানে একাত্ম হয়েছেন অনন্দ উৎসবে। বিগত দিনের ক্লান্তি আর অবসাদ বিলীন হয়েছে লেকের অপার সৌন্দর্যের কাছে। এবার পর্যটকদের ভীড় আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশী। ঈদের ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে আসা প্রতিটি মানুষই আসছেন প্রকৃতি কন্যা মহামায়ার অপরুপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে। চার দেওয়ালে বন্দি মন খানিকটা ছুটি পেয়ে ছটপট করছে একটু আলো-বাতাসের ছোঁয়া পেতে। কতদিন বেড়ানো হয় না। ঈদের ছুটি সেই সুযোগটা করে দিয়েছে। আর ঘরে বসে থাকা যায় না। প্রকৃতির অতি কাছাকাছি যে যেতেই হবে। প্রথমবার পরশ পাওয়া পর্যটক বারবার যেতে চাইবে মুহুরীর চরে। মুহুরী তো আছেই, তারও ওপর আছে আবার মহামায়া। মহামায়া সত্যিকার অর্থেই যেন পর্যটকদের মায়া ছড়ায়। তাই তো একটু সুযোগ পেলেই ঘুরে আসতে মন চায় সাত মাস আগে উদ্বোধন হওয়া প্রকল্পের লেকে। এবার ঈদে তাই এখানকার মুখরিত জনপদ হয়ে উঠেছে আরও মুখর। প্রাণের টানে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়া প্রকৃতি প্রেমীদের আমন্ত্রণ মহামায়া ও মুহুরীর পক্ষে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার ঠাকুর দীঘি বাজারের এক কিলোমিটার পূর্বে। ছায়াঘেরা সড়ক। বলে রাখা ভাল, অনেকটা ভাঙাচোরা রাস্তা। তবে সড়কের এই হাল মহামায়ার সৌন্দর্যে হার মানবে, ফলে ভয়ের কিছু নেই। রাস্তায় প্রস্তুত আছে সিএনজি অটোরিক্‌শাও। কিছুদূর পর দেখা মিলবে রেলপথ। রেল লাইন পেরুলেই কাছে টানবে মহামায়া। প্রাণের টানে ছুটে আসা পথ যেন ক্রমশই বন্ধুর হতে চাইবে মনের কোণে জাগা মৃদু উত্তেজনায়। দূর থেকে দেখা যায় প্রায় পাহাড়সম বাঁধ। উভয় পাশে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। বাঁধে উঠতেই...! আহ, কি অপরূপ শোভা। বাঁধের ধারে অপেক্ষমান সারি সারি ডিঙি নৌকো আর ইঞ্জিনচালিত বোট। ১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের লেক কেবল সুভা ছড়ায়। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে স্বচ্ছ পানিতে তাকাতেই দেখা যায় নীলাকাশ। পূর্ব-দিগন্তের সারি পাহাড়ের বুক চিরে যেতে যেতে একসময় হারিয়ে যেতেও মন চাইবে কল্পনায়। সঙ্গের সাথী পাশে নিয়ে গেলে তো কথাই নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখা গেছে অনেককে। কিছুদূরেই দেখা গেছে পাহাড়ের কান্না। অঝোরে কাঁদছে। অথচ তার কান্না দেখে নিজের কাঁদতে ইচ্ছে হবে না। উপরন্তু কান্নার জলে গা ভাসাতে মন চাইবে। তারও পূর্বে যেখানে লেকের শেষ প্রান্ত, সেখানেও বইছে ঝর্ণাধারা। মাঝপথে থেমে গিয়ে পাহাড়চূড়ায় উঠে নিজেকে গর্ববোধ করতেও পেরেছেন অনেকে। কেননা, সেখান থেকে দেখা মিলেছে দূরের পথ। এক কিলোমিটার দূরের মহাসড়ক, তার অর্ধেকের রেলপথ, ট্রেনের ছুটে চলা, কৃষাণীর ধান মাড়ানো, কৃষকের ফলন, কিশোরের দুরন্তপনা; সব-সবই দেখা মিলবে চূড়া থেকে। তবে সাবধান! বৃষ্টিভেজা পাহাড়ের মাটি পিছলে ছিটকে পড়লে সত্যিকারের চোখের জলে ভাসতে হবে। কি নীল, কি সবুজ, সব রঙের ছড়াছড়ি যেন ঢেলে দেওয়া হয়েছে মহামায়ার প্রকৃতিতে। ঈদ ও এর পরদিন মহামায়ায় গিয়ে দেখা গেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড়। নারী পুরুষ, শিশু সবাই পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। এদের কেউ লেকের পানিতে গোসল করছেন, কেউ ইঞ্জিন চালিত বোটে চড়ে মাটির ড্যাম থেকে কয়েক কিলোমিটার দুরে ঝর্না অবলোকন করছেন। মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ এলাকা থেকে বেড়াতে আসা শিক্ষার্থী নিশান সালছাবিল ভাবনা জানান, ঢাকা থেকে এবার গ্রামের বাড়ী এসেছি। মহামায়া সত্যি বাংলাদেশের একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এখানে এলে যে কারোরই ভালো লাগবে। তবে এ পর্যটন এলাকায় কিছু সমস্যা আছে বলে তিনি জানান। নিরাপত্তা জোরদার, পাবলিক টয়লেট নির্মান, মহাসড়ক থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত লিংক রোড়টি যদি কার্পেটিং করা হয় তাহলে পর্যটকদের আরো সুবিধা হবে বলে জানান তিনি। ভাবনার মত এ রকম হাজারো পর্যটক বেড়াতে আসে মহামায়ায়। শুধু মিরসরাই থেকে নয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পর্যটকরা আসছে মহামায়ায়। বোট ট্রাইভার জানান, সারা বছরই এখানে পর্যটকদের ভীড় থাকে। তবে ঈদ মৌসুমে এখানে তিল ধরনের ঠাই থাকে না। তাই লেকে অতিরিক্ত বোট আনতে হয়। তিনি আরো বলেন, নিরাপত্তা বাড়ানো গেলে পর্যটকরা আরো নির্বিঘ্নে আসতে পারবে। মিরসরাইয়ের ওয়াহেদপুর থেকে বেড়াতে আসা হামিদা আবেদীন বলেন, আমরা প্রায় সময় এখানে বেড়াতে আসি। যতবারই আসি যেন অন্যরকম মনে হয় মহামায়াকে। তিনি বলেন, শুনেছি মহামায়াকে ইকো টুরিজম হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যদি এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয় মহামায়া পর্যটন খাতে ব্যাপক অবদান রাখতে পারবে। শুধু মহামায়া নয় মিরসরাইয়ের মুহুরী প্রকল্প, বাওয়াছড়া পানি উন্নয়ন প্রকল্প, উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকদের ঢল নেমেছে এবার। এসব দর্শনীয় স্থানগুলোকে পর্যটনের আওতায় নিয়ে এলে সরকার যেমন বিপুল পরিমানে রাজস্ব আদায় করতে পারবে অন্যদিকে ভ্রমন পিয়াসী মানুষরাও নির্বিঘ্নে প্রকৃতি দর্শন করতে পারবে।