তিন কারণে যানজট ফেনী বাইপাসে

(২৭ আগষ্ট ২০১১) আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী বাইপাস অংশে যানজটের জন্য প্রধানত তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা মনে করছেন সড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়া, পানি জমে থাকা এবং যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানো-নামানোর কারণে ফেনী বাইপাসে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
গত সোমবার দুপুরে মহিপাল ও ফতেহপুর রেল ক্রসিংসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তায় ছোট-বড় বহু গর্ত। কোথাও কোথাও জমে আছে বৃষ্টির পানি। মহিপালে পুলিশের সামনেই দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা হচ্ছে। মহিপালের আশপাশে রাস্তার ওপরে গড়ে উঠেছে সিএনজি অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের স্ট্যান্ড। এসব কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
মহিপাল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. মিজানুর রহমান বলেন, 'বাইপাসের যানজট নিরসনে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। রাস্তার মাঝে গর্ত সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল বিঘি্নত হচ্ছে। মাঝেমধ্যে মেরামত করা হলেও তা বেশিক্ষণ টিকছে না।' তিনি বলেন, ফতেহপুর রেলক্রসিং এলাকার রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকায় যানজট লেগে থাকে। তা ছাড়া রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী পরিবহন করা যানজটের অন্যতম কারণ বলে তিনি মনে করেন।
ফেনী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. আমীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা সড়ক মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে কিছু স্থানে রাস্তার পাশে উঁচু মার্কেট বা স্থাপনা নির্মাণের ফলে রাস্তা নিচু হয়ে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। জমে থাকা পানির কারণে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় ফান্ডের অভাবেও ভালোভাবে রাস্তা মেরামত করা যাচ্ছে না। তবুও মেরামত কাজ নিয়মিতভাবে চলছে।'
সওজ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট ফেনীর পুলিশ সুপার সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লেখা এক জরুরি চিঠিতে বলেন, ফেনী বাইপাসের ধূমঘাট ব্রিজ থেকে উত্তরে মোহাম্মদ আলী বাজার পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে মুহুরী ব্রিজের উভয় অংশে, ধূমঘাট ব্রিজের উভয় পাশে, মহিপাল চৌরাস্তার উল্লেখযোগ্য অংশে, ফতেহপুর রেলক্রসিং এলাকায় ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। চিঠিতে আরো বলা হয়, টানা বর্ষণ, দির্ঘদিন ধরে রাস্তা মেরামত না হওয়ার কারণে রাস্তার বেহাল দশা। চিঠিতে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী প্রকৌশলী গত ১৭ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপকের (৩) দপ্তরে সড়ক মেরামতে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি ওই প্রকল্পের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফেনীর সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. ইয়াকুব আলী মিয়া গত সোমবার দুপুরে মহিপাল ট্রাফিক বিটে দাঁড়িয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি কলের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা মহাসড়কের যান চলাচল স্বভাবিক রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছি। সড়কের উন্নয়ন হলে সমস্যা কমে যাবে।'
আন্তজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ফেনী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজম চৌধুরী বলেন, 'আমাদের সংগঠনভুক্ত গাড়িগুলো সামান্য সময়ের জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়ালেও তাতে যানজট সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। সমিতির লোকজন প্রতিনিয়ত এ ব্যাপারে খেয়াল রাখছে।'