(১৮ জূলাই ২০১১) এখানে নিয়মিত বাংলা ও ইংরেজির ক্লাস হয় না। দুই বছর ধরে ক্লাস হয় না পদার্থ, রসায়নবিজ্ঞানসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের। বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীরা বাইরে প্রাইভেট পড়ে বছর পার করেন। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রাইভেট পড়াও সম্ভব হয় না। অথচ এটি একটি সরকারি কলেজ।
শিক্ষকসংকটের কারণে এভাবে মৌলিক শিক্ষা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুই হাজার শিক্ষার্থী। ভাগ্যবিড়ম্বিত এসব শিক্ষার্থী ফেনীর ছাগলনাইয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের। এখানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষকের মোট পদ ২৩টি। এর মধ্যে অধ্যক্ষসহ ১৮টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
কলেজ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কলেজে বাংলায় তিনটি, ইংরেজি দুটি, ইসলামের ইতিহাস দুটি, অর্থনীতি দুটি, পদার্থবিজ্ঞান দুটি, রসায়ন দুটি ও গণিতে একটি পদ আছে। এখন এই ১৪টি পদই শূন্য। এ ছাড়া অধ্যক্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও হিসাববিজ্ঞানের একটি করে পদ শূন্য রয়েছে।
কলেজ কার্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ১৯৭২ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয়করণ হয় ১৯৮৮ সালের ২০ ডিসেম্বর। ১৯৮৬-৮৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে উন্নীত হয়। এ কলেজে উচ্চমাধ্যমিক প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে এক হাজার ৩২১ জন স্নাতকের তিনটি বর্ষে ৬০৫ জন শিক্ষার্থী আছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, সরকারি কলেজ বলেই এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। কিন্তু শিক্ষকের অভাবে ক্লাস হয় না। একটি বেসরকারি কলেজের এক শিক্ষক মাঝেমধ্যে এসে ইংরেজির ক্লাস নেন। বাংলা বিষয়ে তিনজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও দুই বছর ধরে একজন ক্লাস নেন। তিনিও গত ৬ জুন ময়মনসিংহের গৌরিপুরে বদলি হয়ে গেছেন। এতে গত এক মাস ধরে বাংলার ক্লাস হয় না।
স্নাতক শ্রেণীর ছাত্র আরিফ, অনিক, অপু, জহির, হেদায়েত, তানজিনা ও ফারহানা জানান, এ কলেজে গড়ে প্রতিদিন ৬০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকেন। শিক্ষক না থাকায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে গণিত, অর্থনীতি, ইসলামের ইতিহাস, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানে পাঠদান করা হয় না।
একাদশ শ্রেণীর প্রিয়া, আছমা, নিশি ও সাহেদ জানায়, সরকারি কলেজে সাধারণত গরিব-মেধাবী শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হন। তাঁরা আর্থিক সংকটের কারণে প্রাইভেটও পড়তে পারেন না।
শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও প্রভাষক মোল্লা মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, এ কলেজে শিক্ষকসংকট বছরের পর বছর লেগেই রয়েছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে অনেকবার চিঠিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো রকম সাড়া মিলছে না।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিমল কান্তি পাল জানান, অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সব পদ শূন্য থাকায় কলেজ পরিচালনায় খুব অসুবিধা হচ্ছে। শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে তিনি বেশ কয়েকবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠিয়েছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
উপজেলা চেয়ারম্যান নূর আহম্মদ মজুমদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোমিনুর রশীদ ও পৌর মেয়র মো. আলমগীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ কলেজের শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জোর দাবি জানান।
