(২১ এপ্রিল ২০১১): ফেনী জেলা শহরসহ গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি
হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত মানুষ খেকো পিরানহা মাছ(রুপচাঁদা বলে বিক্রি হচ্ছে)।
টন হিসেবে ফেনী শহরে মুক্ত বাজারের পাইকার হাট থেকে ক্রয় করে ফেনী শহরের
অলি গলিতে হকার ও ফেরিওয়ালারা প্রতিদিন প্রকাশ্যে বিক্রি করলেও অনেকটা
নিরব ভূমিকায় রয়েছেন পুলিশ প্রসাশন।প্রত্যক্ষদর্শী ও পাইকারী বাজার সূত্রে জানাযায়,ফেনী শহরের ট্রাংক রোডস্থ মাছের বড় আড়ৎ মুক্ত বাজার, ফেনী বড় বাজার এর মাছ বাজার, রেল স্টেশান হর্কাস মার্কেট এর মাছ বাজার, মহিপাল কাঁচা বাজার, পাঁচগাছিয়া কাঁচা বাজারসহ উপজেলা শহর সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী ও দাগনভূঞায় প্রতিদিন ট্রাক, পিকআপ, ভ্যান যোগে ভোর বেলায় পাইকারী বাজারে নামানো হয়। এখান থেকে সূর্য উঠার আগেই খুচরা বিক্রেতারা কিনে বিভিন্ন বাজারে ও হাটে ১২০-১৫০ টাকা দরে রূপচাঁদা বলে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে।
মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমান আদালত ও পুলিশ অভিযান চালালেও মানুষ খেকো বিষাক্ত পিরানহা মাছ আটক করে না। যদিও করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও জেল জরিমানা না থাকায় পরে তারা আবার পিরানহা মাছকে রূপচাঁদা বলে বিক্রি করছে। এভাবে না জেনে ফেনীর হাজারো মানুষ এ বিষাক্ত মাছ খাচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতা শরিফ ফেনী শহরের মাষ্টার পাড়ায় পিরানহা মাছকে রূপচাঁদা বলে বিক্রি করতে গেলে সচেতন মহল তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। শরিফ জানায়, ফেনী শহরের মাছের বড় আড়ৎ মুক্ত বাজার থেকে এ মাছ কিনেছেন। এ বাজারে প্রতিদিন ভোরে ট্রাকে করে টনে টনে পিরানহা মাছ বাজারে আসে, যা খুচরা বিক্রেতারা কিনে নিয়ে যায়। অন্য ব্যবসায়ীর মতো আমিও কিনে বিক্রি করি। আমাদেরকে শাস্তি দেয়ার আগে আড়ৎদারদার শাস্তি দিন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আড়ৎদারদের জানান,কিছু অসাধু আড়ৎদার বাড়তি টাকার লোভে ফেনীর তীরবর্তী নদী থেকে আনা এসব মাছ বিক্রি করে শতকরা ২০ টাকা করে কমিশন পায়। দাদন ব্যবসায়ীরা অর্ধেক মূল্যে পাইকার বিক্রেতার নিকট বিক্রির পর খুচরা বিক্রেতারা কিনে নিয়ে সাধারণ ভোক্তার নিকট বিক্রি করে। ফেনী বড় বাজার এর মাছের আড়ৎদার মোঃ মালেক ও মোঃ অর্জুন জানান,তারা কেউই পিরানহা মাছ বিক্রি করেনা।
এ ব্যাপারে ফেনীর পুলিশ সুপার মোঃ ইমাম হোসেন জানান,ফেনীতে পিরানহা মাছ বিক্রি হয় এটা আমাদের জানা নেই। তবে আপনি যেহেতু বলেছেন আমরা আগামী কাল(২২ এপ্রিল)-অভিযান চালাবো। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
