ফেনীতে বৈদ্যুতিক তার ও ট্রান্সফরমার চুরি আশংকাজনক হারে বাড়ছে ॥ ৫ বছরে পল্লী বিদ্যুতের ক্ষতি দেড় কোটি টাকা

ফেনীতে বৈদ্যুতিক লাইন থেকে তার ও ট্রান্সফরমার চুরি এবং অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার আশংকাজনক হারে বাড়ছে। এতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকদের যেমন আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে তেমনি তারা ভোগান্তিরও শিকার হচ্ছেন। ফেনী পলী বিদ্যুৎ সমিতির দেয়া তথ্যে জানা গেছে, সমিতির আওতাধীন জেলার ৬ উপজেলায় গত ৫ বছরে ৩৪৪ টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এছাড়া তার চুরি হয়েছে ১২ হাজার ৬ শত ৮৫ মিটার। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সমিতির দেয়া পরিসংখ্যানে আরো জানা গেছে, বিগত ৬ মাসে চুরি হয়েছে অন্য সময়ের তুলনায় বেশী। ২০১০ সালের জুলাই মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৯ টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। ওই সময়ে তার চুরি হয়েছে ৯৯ মিটার। ২০০৯-১০ সালে ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে ৯০ টি। তার চুরি হয়েছিল ১৬৪ মিটার। ২০০৮-০৯ সালে সর্বাধিক ১১২ টি ট্রান্সফরমার ও ৩৬০০ মিটার তার চুরি হয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে চুরি হয়েছে ৪৯ টি ট্রান্সফরমার ও ৭৮৭৮ মিটার তার। ২০০৬-০৭ সালে চুরি হয়েছে ২৪ টি ট্রান্সফরমার ও ৯৪৪ মিটার তার। এসব চুরির ঘটনায় ক্ষতির ভাগ গ্রাকদেরও টানতে হচ্ছে। বিগত ৫ বছরে শুধু ট্রান্সফরমার চুরির জন্য সংশিষ্ট এলাকার গ্রাহকরা ৬৩ লাখ ৫৯ হাজার ৯৮৮ টাকা ও তার চুরির জন্য ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৭২ টাকা দিতে হয়েছে। অবশিষ্ট ৬৯ লাখ ৪১ লাখ ২৬০ টাকা সমিতির পক্ষ থেকে শোধ করতে হয়েছে। এ ব্যপারে বিভিন্ন থানায় প্রায় ৪শত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনায় যাদেরকে হাতে নাতে ধরা হয়েছে কেবল তাদের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অপরাপর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার কিংবা চোরাই মালামাল উদ্ধারে পুলিশের উলেখযোগ্য কোন সাফল্য নেই। কারণ হিসেবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ চোর চক্র জেলার বাইরে থেকে এসে রাতের আধাঁরে এসব ঘটনা ঘটিয়ে আবার ফিরে যায় এবং চোরাই মাল ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। অবশ্য পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে এসব চোরাই মাল উদ্ধার হওয়ার ঘটনা জানা গেলেও ওইসব মাল ফেনীর কিনা তা জানা যায়নি। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম প্রকৌশলী মোঃ সাইরুল ইসলাম জানান, লাইন থেকে হুকিং করে বিদ্যুৎ চুরিও ব্যাপক হারে বেড়ে চলেছে। এতে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে সমিতি আর্থিকভাবে ক্রমশঃ দূর্বল হয়ে পড়েছে অন্যদিকে চুরি করে বিদ্যুৎ ব্যবাহারের অতিরিক্ত লোডে ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে সমিতির কর্মকর্তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে, গত ১ মাসে ৯১ টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। উল্লেখিত সময়ে ওই সংযোগে ৯০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহৃরিত হয়েছে। যার দাম প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ট্রান্সফরমার, তার ও বিদ্যুৎ চুরি প্রতিরোধের জন্যে গঠিত কমিটির এক সভা গতকাল শনিবার ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির সভাপতি আবদুল মোতালেব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বি.কম। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু আহম্মদ আল মামুন। বক্তব্য রাখেন সমিতির সহ-সভাপতি এএসএম ইয়াছিন, পরিচালক ইলিয়াছ চৌধুরী, ফেনী রিপোটার্স ইউনিটির যুগ্ন-আহবায়ক যতন মজুমদার, কালিদহ ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল বাশার প্রমুখ। সভায় বৈদ্যুতিক তার ও ট্রান্সফরমার চুরি এবং অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার রোধকল্পে নানা আলোচনা হয়। সমিতির কর্মকর্তারা চুরি রোধকল্পে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহীনি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।