ফেনীর আদালতে মানহানীর মামলায় দৈনিক জনকন্ঠ সম্পাদক ও ফেনীর নিজস্ব সংবাদদাতা বেকসুর খালাস

দৈনিক জনকন্ঠের সম্পাদক ও ফেনীর নিজস্ব সংবাদদাতার বিরুদ্ধে সদর থানার ফাজিলপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের দায়ের করা মানহানীর মামলায় আদালত উভয়কে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন।ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট চতুর্থ আদালতের বিচারক কাজী আরাফাত উদ্দিন বুধবার দুপুরে এ রায় প্রদান করেন।

ফেনী সদর থানার ফাজিলপুরের জনগণ এক মিনি গডফাদারের হাতে জিম্মি এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা শীর্ষক একটি সংবাদ দৈনিক জনকন্ঠের ২০০৫ সালের আগষ্ট মাসে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর ফাজিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন দৈনিক জনকন্ঠ বরাবরে আইনজীবির মাধ্যমে একটি প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়ে প্রতিবাদলিপিটি ছাপিয়ে মামলার দায় থেকে মুক্ত থাকার জন্য উকিল নোটিশ প্রেরণ করেন। দৈনিক জনকন্ঠে প্রতিবাদলিপিটি প্রকাশিত হলেও চেয়ারম্যান রুহুল আমিন পুনরায় দৈনিক জনকন্ঠের সম্পাদক আতিকুল্লা খান মাসুদ ও ফেনীর নিজস্ব সংবাদদাতা ওছমান হারুন মাহমুদকে আসামী করে ফেনীর আমলী আদালতে মানহানীর মামলা দায়ের করে। ২০০৫ সাল থেকে মামলা চলাকালীন সময় বাদী পক্ষের ৪ জন আদালতে স্বাক্ষী প্রদান করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় মামলার দ্বিতীয় আসামী ওছমান হারুন মাহমুদ,দৈনিক যুগান্তরের ফেনী জেলা প্রতিনিধি যতন মজুমদার,দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম আদালতে আসামীদের পক্ষে ছাপাই স্বাক্ষী প্রদান করেন। মামলার যুক্তিতর্কের সময় আসামীপক্ষ থেকে দৈনিক জনকন্ঠে এই আলোচিত সংবাদ প্রকাশের পূর্বে চেয়ারম্যান রুহুল আমিনের অপকর্ম নিয়ে কমপক্ষে ২২ টি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সহ প্রধানমন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশন,জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেওয়া এলাকাবাসীর আকুল আবেদনের কপি আদালতে জমা দেওয়া হয়। আদালতে দীর্ঘ শুনানী স্বাক্ষী, জেরা যুক্তিতর্কের পর বুধবার দুপুরে আদালতের বিচারক কাজী আরাফাত উদ্দিন দৈনিক জনকন্ঠের সম্পাদক আতিকুল্লা খান মাসুদ ও ফেনীর নিজস্ব সংবাদদাতা ওছমান হারুন মাহমুদকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

দৈনিক জনকন্ঠের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, এডভোকেট জাহিদ হোসেন খসরু, ফেনী বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুর হোসেন ও সাবেক পিপি এডভোকেট শরফউদ্দিন মাহমুদ মানিক, সাবেক এপিপি শহীদুল ইসলাম সেলিম, এপিপি এডভোকেট শহীদুল্লাহ, এপিপি ও আইনজীবি সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরুল ইসলাম সোহাগ, এডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন মানিক, এডভোকেট নুরুল ইসলাম সহ ১৫ জন আইনজীবি। বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন নান্নু ও এডভোকেট আবদুস সাত্তার।