দাগনভূঁঞায় উদ্ধারকৃত বিরল প্রজাতির কাছিমটি গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে প্রেরন

ফেনীর দাগনভূঞার একটি গ্রামের পুকুরে থাকা বিলুপ্তপ্রায় বিরল প্রজাতির কাছিমটি ঢাকার ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে পাঠানো হয়েছে। জীব বৈচিত্র গবেষণা বিষয়ক বেসরকারী সংস্থা ক্যারিনাম-এর একটি দলের উদ্যোগে এবং ফেনীস্থ সামাজিক বন বিভাগীয় কর্মকতার সহায়তায় কাছিমটিকে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে নেওয়া হয়। স্থানীয় ভাবে মান্দারি কচুরি নামে পরিচিত কাছিমটির বয়স প্রায় শত বছর বলে ধারনা করা হয়।

গ্রামের বর্ষীয়ান লোকজনের মতে দাগনভূঁঞার জায়লস্কর ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের কাজী বাড়ির পুকুরেই প্রায় শতাধিক বছর বাস করছিল কাছিমটি। স্থানীয় ভাবে তার নাম রাখা হয়েছিল মান্দারি কচুরি। বেসরকারী সংস্থা‘ক্যারিনাম’ প্রায় ছয় মাস আগে জীব বিজ্ঞানী বাটাগোর বাস্কা প্রজাতির এই মহিলা কাছিমের খবর পায়। বাড়ীর মালিকরা প্রথমে কাছিমটি দিতে রাজি হননি। দীর্ঘদিন তাদের সাথে আলাপ আলোচনার পর তারা কাসিমটি দিতে রাজী হয়। এটির ওজন প্রায় ২০ কিলোগ্রাম-(২০ কেজি)।

‘ক্যারিনাম’-এর প্রধান নির্বাহী ও জীব বৈচিত্র গবেষণা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড.এস এম এ রাশিদ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন,মিঠাপানির ২২ প্রজাতির কাছিম রয়েছে। এরমধ্যে বাটাগোর বাস্কা প্রজাতির কাছিম বাংলাদেশ ছাড়া এখন পৃথিবী থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সর্বশেষ ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, থাইল্যান্ডসহ এই উপমহাদেশের দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে বাটাগোর বাস্কা প্রজাতির কাছিম পাওয়া যেত। বর্তমানে বাংলাদেশে ছাড়া এই কাছিম আর কোথাও আছে বলে জানা নেই। ১৯৯০ সালে পর থেকে এই প্রজাতির মহিলা কাছিম বাংলাদেশেও পাওয়া যাচ্ছিল না। শুধু গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে এ প্রজাতির ১০টি পুরুষ এবং ২টি মহিলা কাছিম সংরক্ষিত রয়েছে। এখন এটিসহ ৩টি মহিলা কাছিম হবে। আমাদের আরো ৭টি মহিলা কাছিমের প্রয়োজন।বাংলাদেশে এই প্রজাতির পুরুষ কাছিম মুখপোড়া,মহিলা কাছিম শালগম আঞ্চলিক নামে পরিচিত। এই মহিলা কাছিমটির প্রজনণের মাধ্যমে প্রজাতি সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
মহিলা কাছিমটির সন্ধান পেয়ে দারুন ভাবে আনন্দোলিত হয়েছেন উদ্ধারকারী দলের টার্টল সারভাইকেল এলাইন্স-(টিএসএ)এর ভারত থেকে আসা গবেষক রূপালী ঘোষ। এই প্রজাতির কাছিমটি পাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি আশার আলো দেখছেন।তার মতে -এটি পাওয়ায় প্রায় বিলুপ্তির পথে প্রজাতিটি সংরক্ষণের রাস্তা তৈরী হয়েছে। তিনি আলমপুর গ্রামবাসীর সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞ।

কাছিম উদ্ধারকারী দলটি আসার সাথে সাথে গ্রামে মান্দরি কচুরিটিকে নিয়ে যাওয়ার খবর রটে যায়। ছুটে আসতে থাকে গ্রামবাসী। মান্দরি কচুরিও যেন ডাগর ডাগর চোখে তার আপনজনদের শেষবারের মত দেখে নিচ্ছিল। কাছিমটি নিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ী ও আশেপাশের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন তারা কাছিমটিকে ভালবাসা দিয়ে আপন জনের মত ডেকে আদর করে খাইয়েছে।তারপরও তারা খুশী তাদের মান্দরি কচুরি কাছিমটি জাতীয়ভাবে সমাদৃত হয়ে জাতীয় উদ্যানে গিয়ে জাতীয় ভাবে অবদান রাখবে।

কাজী বাড়ির করিমুল হক ও আবদুল মালেক জানায়,তাদের দাদা কাজী সরাফত আলি প্রায় শতাধিক বছর আগে বাড়ীর পাশে অবস্থিত‘ছোট ফেনী’নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এ কাছিমটি পেয়ে বাড়ির নিয়ে পুকুরে ফেলে। বংশ পরম্পরায় তারা কাছিমটিকে লালন পালন করে আসছিল। তারা বলেন,পুকুরে কচু পাতা ফেলে নাম ধরে ডাকলে কাছিমটি পুকুর পাড়ের কাছে ভেসে উঠত। আলমপুর গ্রামের মানুষজন এই প্রানীটিকে আর্শীবাদ মনে করে শ্রদ্ধা ভক্তি করত।