ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পদ সৃষ্টি ছাড়াই দুই শিফ্ট চালু,লেখাপড়ায় বিঘ্ন

ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে তিন বছর আগে দুই শিফ্ট ক্লাস চালু করা হলেও এখনো দ্বিতীয় শিফ্টের জন্য শিক্ষকের কোন পদ সৃষ্টি করা হয়নি। ফলে এক শিফ্টের শিক্ষক দিয়েই চলছে দুই শিফ্টের ক্লাস। এতে শিক্ষকের তুলনায় শিক্ষার্থী বেশী হওয়ায় পাঠদানে বিঘ্ন সৃষ্ঠি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের দুই শিফ্ট ক্লাসের জন্য শিক্ষক প্রয়োজন ৫৩ জন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক রয়েছে ২৫ জন।

বিদ্যালয় সুত্রে জানাযায়,১৮৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ফেনী জেলায় ঐতিহ্যবাহী প্রাচিন বিদ্যালয়। পড়ালেখা ও ফলাফলের মানে জেলায় শীর্ষ স্থান দখল করে রয়েছে। ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকারের সময় ফেনীর দুটি ও কুমিল্লার পাঁচটিসহ মোট সাতটি সরকারী বিদ্যালয়ে দুই শিফ্ট ক্লাস চালু করা হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের আরও ৮০টি সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই শিফ্ট চালু করা হয়। দ্বিতীয় শিফটের এসব বিদ্যালয়ের জন্য নতুন পদ সৃষ্টি করে শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুই শিফ্ট চালু করা ফেনীর দুটি বিদ্যালয়সহ সাতটি বিদ্যালয়ে এখনো শিক্ষকের পদই সৃষ্টি করা হয়নি। যার ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ২৫জন শিক্ষকের মধ্যে প্রতি শিফ্টে ১২ জন করে শিক্ষক ক্লাসে পাঠদান করছে।

ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ষষ্ট শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ১২২১ জন ছাত্র রয়েছে। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে ২০৮ জন।বিদ্যালয়ে দুইজন ইংরেজী শিক্ষক দুই শিফ্টে ভাগ হয়ে ক্লাসে পাঠদান করে থাকেন। বিদ্যালয়ে আরও একজন ইংরেজী বিষয়ে শিক্ষক থাকলেও তিনি পেষনে চট্টগ্রাম সরকারী বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া শিক্ষক স্বল্পতার কারনে বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে। বর্তমানে নবম শ্রেণীতে ২৩৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তার মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৫৬ জন শিক্ষার্থীকে একসাথে ছোট একটি শ্রেণী কক্ষে ক্লাস করতে হয়। বিদ্যালয়ের ছাত্র শিলনায়তনে বিভিন্ন সময় তাদের ক্লাস নেওয়া হয়। এ ছাড়াও প্রতিটি শ্রেণীতে দুটি করে সেকশন করা হলেও প্রতিটিতে গড়ে ৮৫ জন করে ক্লাস করতে হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর মোঃ নুরুল আমিন জানান,বিদ্যালয়ের মূল ভবনটিকে এক যুগ পূর্বে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে প্ররিত্যাক্ত ঘোষনা করে। জরাজীর্ন বিদ্যালয় ভবনের ঝুকি নিয়ে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক মিলনায়তন, কম্পিউটার কক্ষ, ল্যাবরেটরী, এবং তিনটি শ্রেণী কক্ষ বিদ্যমান রয়েছে। মূল ভবন ছাড়া বিদ্যালয়ের অপর দুটি ভবনে সাতটি শ্রেণী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের প্ররিত্যাক্ত বাস ভবনটি মোরামত করে সেটিতে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঝুকিপূর্ন ও পরিত্যাক্ত পুরানো ভবনটিতে শ্রেণী কক্ষ থাকায় সব সময় মনের মধ্যে আতংক বিরাজ করে। বিদ্যালয়ের প্রভাতী শাখার শ্রেণী কার্যক্রম শুরু হয় সকাল সাড়ে সাতটায়। শেষ হয় দুপুর ১২টায়। দিবা শাখার ক্লাম চলে দুপুর ১২ট থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত। তিনি বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতার কথা স্বীকার করে বলেন,বিদ্যালয়ে দুই শিফ্ট চালু করে শিক্ষকের পদ সৃষ্টির জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে লেখালেখী শুরু হয়। শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে পদ সৃষ্টির জন্য সংস্থাপন মন্ত্রনালয়ে ফাইল পাঠানো হয়। কিন্তু যে সকল বিদ্যালয়ে দুই শিফ্ট পরে চালু করা হয়েছে সে সকল স্কুলের জন্য নতুন শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। অথচ তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুই শিফ্ট চালু হওয়া স্কুল গুলোর শিক্ষক পদ সৃষ্টি হয়নি।

বিদ্যালয়ের হাসান, আরিফ, মামুন, সজল, ইউসুফ, মানিকসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের পুরানো জরাজীর্ন ও পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস করতে তাদের ভয় হয়। এ ছাড়া এক সাথে গাদাগাদি করে ক্লাসে পেছনের সীটে বসে স্যারদের কথা শোনা যায়না। পড়া বুঝতে কষ্ট হয়। প্রাইভেট পড়ে ওই সব পড়া শেষ করতে হয়।

ছাত্রের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আবদুল ওহাব নামে এক অভিভাবক জানান,বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে পাশ করা মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগীতা মূলক পরীক্ষা দিয়ে ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি হতে হয়। বিদ্যালয়ে শ্রেণী কক্ষের সংকট,শিক্ষক সল্পতার কারনে অভিভাবকরা সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। সে সব মেধাবী শিক্ষার্থীরা সারা বছর প্রাইভেট না পড়লে ভাল ফলাফল করতে পারে না। তিনি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শিফ্টের জন্য শিক্ষক পদ সৃষ্টি ও বিদ্যালয় ভবন নির্মান করে ঐতিয্যবাহী বিদ্যালটির শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান।

জেলা শিক্ষা অফিসার ইসমত আরা বেগম জানান,তিনি এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন। মন্ত্রনালয়ে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।