পরশুরামে পাখি শিকারিদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত এক হাজার টিয়া পাখি মুক্ত আকাশে

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর গ্রাম থেকে রোববার সন্ধ্যায় এলাকাবাসীর সহায়তায় স্থানীয় কয়েকজন যুবক প্রায় এক হাজার আটক টিয়া পাখি উদ্ধার করেন। সোমবার সকালে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় টিয়া পাখিগুলো উপজেলা পরিষদ চত্বরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মির্জানগর ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামে সাত-আটজন পাখি শিকারি জাল দিয়ে ওই টিয়া পাখিগুলো আটক করে পাখি রাখার বিশেষভাবে তৈরি ৫০০টি ব্যাগে ভরে রাখেন। শিকারিরা ব্যাগগুলো ওই গ্রামে তাঁদের ভাড়া করা ঘরে লুকিয়ে রাখেন। এত পাখির কিচিরমিচির শুনে প্রতিবেশী যুবক ফজলুল বারী, করিম, মনছুরসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় টিয়া পাখিগুলো উদ্ধার করে উপজেলা সদরে নিয়ে যান। এদিকে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারিরা পালিয়ে যান।

ফজলুল বারী জানান, সাত-আটজন শিকারি পাখিগুলো আটক করেন। সোমবার সকালে পরশুরামের উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে টিয়া পাখিগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরশুরামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নির্মল কান্তি চাকমা জানান, পাখি শিকার সম্পূর্ণ বেআইনি। স্থানীয় যুবকেরা আটক টিয়া পাখিগুলো নিয়ে আসেন। সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলি আরশাদ বলেন, ‘পরশুরামে বিভিন্ন স্থানে পাখি শিকারের কথা শুনে আসছি, কিন্তু শিকারিদের খুঁজে পাইনি। শিকারিরা ধানখেতের ওপর বড় জাল ফেলে দূরে বসে থাকেন। তাই তাঁদের শনাক্ত করা যায় না।’

বন বিভাগের পরশুরাম উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হোসেন খান জানান, ‘এক হাজার টিয়া পাখি আটকের কথা শুনেছি। যেহেতু পাখিগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তাই এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।’ তিনি জানান, ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ পাখি শিকার করতে না পারেন, সেদিকে তাঁরা সজাগ থাকবেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আসা কয়েক ব্যক্তি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে জাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পাখি শিকার করে আসছেন। উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বাড়িতে এ ধরনের আট-দশজন পাখি শিকারি ভাড়া থাকেন। মির্জানগর গ্রামের দুটি বাড়িতেও আরেক দল পাখি শিকারি ভাড়া থেকে বিভিন্ন স্থানে পাখি শিকার করেন।

একটি সূত্র দাবি করেছে, পরশুরামে পাখি শিকারি এই চক্রকে পরিচালনা করেন ঢাকায় পাখি ও বন্য প্রাণী ব্যবসায়ী বাবুল আহাম্মদ। সোমবার তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, পাখি শিকার ও বিক্রি করা তাঁর পেশা। তিনি এসব পাখি ধরে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করেন।