(২২ জুলাই ২০১১) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রন, ইরিগেশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ২৭টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজের নামে হয়েছে লুটপাট ও দুনীতির মহোৎসব। নির্মাণ কাজে বেড়িবাঁধ এলাকার বাহির থেকে মাটি সংগ্রহের নিয়ম থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেনি। বেড়ি বাধেঁর নামে ঠিকাদাররা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের যোগসাজসে কোটি কোটি টাকা হরিলুট করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলেও জনগনের উপকারের চাইতে তি হয়েছে বেশী। গত ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর মুহুরী ও কহুয়া নদীর দু’পাড়ে ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার প্রায় ১৫লাখ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও খাদ্য শস্য উৎপাদনের ল্যে মুহুরী ও কহুয়া নদীর তীরে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্র্মাণ, ৪কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি পানি নিষ্কাশন ও আউট লেইন নির্মাণ, ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৩টি পানি নিষ্কাশন খাল সংস্কার, ১০কোটি টাকা ব্যয়ে ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রা বক স্থাপনের মাধ্যমে ২৭টি প্রকল্পের কাজ করে। এতে সর্বশেষ বরাদ্দ হিসেবে ভূমি অধিগ্রহন বাবত বরাদ্ধ রাখা হয় ৫কোটি টাকা। নির্মাণকালীণ ত্রুটি ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বক না বসার কারণে বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে ধস নেমেছে। জরুরী ভিত্তিতে এসব ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় সিসি বক ও বালি ভর্তি জিও টেক্স বস্তা ফেলা না হলে বেড়ি বাঁধের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবেনা। গত ২দিনে টানা বর্ষনে ফুলগাজী উপজেলার দণি শ্রীচন্দ্রপুর এলাকায় মুহুরী নদীর বাঁধে উজান থেকে ছেড়ে আসা পানির তোড়ে বাঁধটির কয়েকটি স্থানে ধস নেমেছে। ফলে ওই এলাকার বাড়ী ঘর, ফসলী জমি, মসজিদ, মক্তব ও মাদ্রাসা নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গ্রামবাসী ভাঙ্গনের বিষয়টি ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। কর্মকর্তারা সরেজমিনে এসে তদন্ত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপরে কাছে চিঠি দিবেন বলে এলাকাবাসীকে জানান। এই মুহুর্তে তাদের কিছুই করনীয় নেই বলে সাফ জানিয়ে দেয়। যার কারণে স্থানীয় জনগনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হতাশা দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসীর বিপদে ও তাদের দূর্ভোগ লাঘবে এ পর্যন্ত কোন জনপ্রতিনিধি সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি বলেও তাদের অভিযোগ।
