কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের ডিপ্লোমা প্রকৌশলের ফল প্রকাশ - ফেনী কম্পিউটার ইনষ্টিটিউটের সাফল্য অব্যাহত

গত সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা প্রকৌশলের ২য়, ৪র্থ, ৬ষ্ঠ এবং ৮ম পর্বের ফলাফল। প্রকাশিত ফলাফলে গত কয়েক বছরের মত এবার-ও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউট। ভালো করেছে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-সহ অন্যান্য পলিটেকনিক ও টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটগুলো। তবে বোর্ডের ভুলের কারণে ফলাফলে অনেক শিক্ষার্থীকে ব্যাবহারিকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে, যা পরবর্তীতে সংশোধনের উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এবারের প্রকাশিত ফলাফলের সাথে সাথে শেষ হয়ে গেছে ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ডিপ্লোমা প্রকৌশল অধ্যায়। ফলাফলে তাদের সব সেমিষ্টারের গ্রেড পয়েন্ট মিলিয়ে গড় জি.পি.এ. প্রকার করা হয়। এতে সবোর্চ্চ ৩৩টি এ গ্রেড এবং ২৪টি এ-মাইনাস পেয়ে ফেনী কম্পিউটার ইনষ্টিটিউটের দেশের সেরা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ধরে রেখেছে। এতে ফোর পয়েন্ট স্কেলে সর্বোচ্চ ৩.৯৮ পেয়ে পূর্বের সবোর্চ্চ জি.পি.এ.-এর সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউট-এর ডাটা টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের ছাত্র ইমদাদুল সাদিক। উল্লেখ্য গতবারের সৃষ্ট সবোর্চ্চ জি.পি.এ.-র রেকর্ডটি-ও উক্ত প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীর ছিল। ফলাফল জানার পর প্রতিক্রিয়ায় সে বলে সে খুশি এবং প্রতক্ষ-পরোক্ষভাবে যারা তার পাশে ছিল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। সে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি শুভকামনা-ও জানাতে ভুলেনি। তার মতে, "এখানে মেধার-ও চর্চা হয় কিন্তু ধারা-অধারার সীমারেখায় সেই মেধাগুলো হতাশার অতল গহ্বরে তলিয়ে যায়"। তার আশা এখানে যেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের ভিত্তি রচিত হয়, তার বিশ্বাস FCI-তে সেই সুযোগ-সুবিধা আছে। সে আরও আশা করে তার মত এখানে যেন আর কেউ ধারা-অধারার সীমারেখায় পড়তে না হয়। এছাড়া বোর্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জি.পি.এ. ৩.৯৬ যৌথভাবে অর্জন করেছে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের একজন এবং বরিশাল আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের একজন শিক্ষার্থী। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩.৯৪ পেয়েছে ফেনী কম্পিউটার ইনষ্টিটিউটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের শামীমা নাসরিন এবং ফাহমিদা পাটোয়ারী।

এদিকে পাশের হারের দিক থেকেও ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের ছাত্ররা চমক দেখিয়েছে। অষ্টম পর্বের ডাটা টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৮ জন পাশ করেছে এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের ৪৮ জনের মধ্যে ২৯ জন পাশ করেছে। যদিও তাদের দাবি ব্যাবহারিকে অকৃতকার্য দেখানো ১৫ জনর ফলাফল সংশোধন করে পুনঃ প্রকাশ হলে তাদের বিভাগ হতে ৪৪ জন পাশ করার কথা।


এবারের প্রকাশিত ফলাফলে বরাবরের মত বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড আবারো ফলাফলে বড় ধরণের ভু্ল ছাপিয়েছে। গত ২০ জানুয়ারী ফলাফল প্রকাশের কিছুক্ষণ পর কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে পি.ডি.এফ. ফাইলে ফলাফল ডাউনলোড করলে দেখা যায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তার বিষয় নয়, কিন্তু তবু সেসব বিষয়ে সে ব্যাবহারিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। এমন দুর্ভাগ্যের স্বীকার ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ষষ্ঠ পর্বের আর্কিটেকচার ও ইন্টারিয়র ডিজানের এক ছাত্র জানালো তাকে এমন দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে যেসব বিষয় তার ছিলো না। আবার ফেনী কম্পিউটার ইনষ্টিটিউটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ভিজ্যুয়াল প্রোগামিং বিষয়ের ব্যাবহারিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে, যদিও পরে বোর্ডের সাথে প্রতিষ্ঠান থেকে যোগাযোগের পর তারা তাদের ত্রুটির কথা স্বীকার করে দ্রুত ফলাফল ঠিক করে প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছে। তবে উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থী জানায় তাদের ৩ ক্রেডিটের এই বিষয়ের থিওরী পরীক্ষা ৫০ নাম্বারে হওয়ার কথা থাকলেও তাদের ৮ম পর্ব সমাপনী পরীক্ষায় ২৫ নাম্বারের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়। তারা দাবী করছে তাদের উক্ত বিষয়টি বোর্ড এক ক্রেডিটের বিষয় ভেবে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ নাম্বার দেয়া হয়েছে এবং তারা এ কারণে আশানুরুপ জি.পি.এ পায়নি। তারা তাদের বিষয়টির প্রাপ্য সকল নাম্বার দিয়ে সম্পূর্ণরুপে সংশোধন করে আবার ফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।যদিও পূর্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে তাদের এই দাবি অরণ্যে রোদন ছাড়া আর কিছুই নয়। একই ধরণের ভুলের মাশুল গুণতে হচ্ছে দেশের অনেক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বের প্রচুর শিক্ষার্থীকে। তবে, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার ত্রুটিযুক্ত ফলাফল সংশোধন করে প্রকাশ করা হতে পারে।

বিভিন্ন পরিসংখ্যানের তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইট