ফেনী রেলস্টেশনে যাত্রী ও রেলওয়ে পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ


(০৮ মার্চ ২০১২)  ফেনী রেলস্টেশনে গতকাল বুধবার যাত্রী ও রেলওয়ে পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। ট্রেনের ইঞ্জিনে ওঠা যাত্রীদের আটক করা এবং একজন সহকারী চালককে আটক করে মারধর করার জের ধরে এ ঘটনা ঘটে। সহকারী চালককে মারধর করার খবর পেয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে গতকাল দুপুরে চালকেরা বিক্ষোভ করেন। এ কারণে আন্তনগর এক্সপ্রেস গোধূলীসহ তিনটি ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে দেরিতে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে নয়টায় চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেস নামের ট্রেনটি ফেনী স্টেশনে পৌঁছায়। ওই ট্রেনের ইঞ্জিনে চালক (লোকোমাস্টার) ও সহকারী চালক (অ্যাসিসট্যান্ট লোকোমাস্টার) ছাড়াও ১৫-২০ জন যাত্রী ছিল। স্টেশনে পৌঁছার পর ফেনী রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ক্যাম্পের সদস্যরা ইঞ্জিনে ওঠা কয়েকজন যাত্রীকে আটক করে নিচে নিয়ে আসেন। এ নিয়ে ট্রেনের সহকারী চালক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে পুলিশের বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁকে লাঠিপেটা করতে করতে টেনেহিঁচড়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে আটক করে রাখে।

ওই স্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, জাহাঙ্গীরকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার পরপরই সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস স্টেশনে পৌঁছায়। তখন চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেসকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য লাইন ক্লিয়ার সংকেত দেওয়া হয়। এ অবস্থায় ওই ট্রেনের চালক আবু তাহের তাঁর সহকারী চালক জাহাঙ্গীরকে না নিয়ে ট্রেন ছাড়তে রাজি হননি। ট্রেন ছাড়তে দেরি হওয়ার কারণ জানার পর একপর্যায়ে যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে জিআরপি ক্যাম্প ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ ও যাত্রীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। একপর্যায়ে পুলিশ জাহাঙ্গীরকে ছেড়ে দিলে সকাল ১০টা ২২ মিনিটে মেঘনা এক্সপ্রেস স্টেশন ছেড়ে যায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফেনী জিআরপি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, বিএনপির ১২ মার্চের কর্মসূচি সামনে রেখে কোনো লোক যাতে ট্রেনের ছাদে, বাম্পারে ও ইঞ্জিনে উঠতে না পারে, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছিল। কিন্তু ওই ট্রেনের ইঞ্জিনে ওঠা যাত্রীদের নামিয়ে আনার সময় সহকারী লোকোমাস্টার জাহাঙ্গীর পুলিশকে বাধা দেন।

এদিকে সকালে ফেনী স্টেশনের খবর চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার লোকোমাস্টাররা পাহাড়তলীর লোকোশেডে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। তাঁরা দুই-আড়াই ঘণ্টা কোনো ইঞ্জিন শেড থেকে বের করেননি। এ সময় লোকোমাস্টাররা রেলওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং রেলকর্মীদের কাজে হস্তক্ষেপ না করার দাবি জানান। লোকোমাস্টারদের বিক্ষোভের কারণে ঢাকাগামী মহানগর গোধূলী বিকেল তিনটার পরিবর্তে পাঁচটায়, ময়মনসিংহগামী নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস বিকেল তিনটা ১০ মিনিটের পরিবর্তে বিকেল পাঁচটা ৪০ মিনিটে এবং চাঁদপুরগামী মেঘনা বিকেল পাঁচটার পরিবর্তে পাঁচটা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধা এ প্রসঙ্গে বলেন, ফেনীতে অবাঞ্ছিত ঘটনার জের ধরে লোকোমাস্টাররা বিক্ষোভ করেন। পরিচয় দেওয়ার পরও ফেনীতে সহকারী লোকোমাস্টারকে লাঠিপেটা করা রেলওয়ে পুলিশের উচিত হয়নি। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে লোকোমাস্টাররা কাজে যোগ দিয়েছেন।