(০৭ মার্চ ২০১২) সবেমাত্র গরমের শুরু। গরম শুরু হতে না হতে ফেনীতে লোডশেডিং বাড়ছে। ফেনীর সবকটি উপজেলায় সকাল থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত প্রতি ঘন্টায় চলছে লোডশেডিং। এমনকি গভীররাতেও চলছে লোডশেডিং। হঠাৎ গরম ও বাড়ছে। গরম যত বেডেই চলছে লোডশেডিং তত বেডেই চলছে। বিদ্যুৎ না পেয়ে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জানা যায়, বিদ্যুৎ একবার গেলে তিন ঘন্টায় আর আসে না। তিনঘন্টা পর আসলে আধাঘন্টা কিংবা একঘন্টা থেকে আবার চলে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘটতে হলে বিদ্যূতের চাহিদা অবশ্যই মেটাতে হবে। বর্তমান যুগ ইলেকট্রনিক্রের যুগ। আর বিদ্যুতের অভাবের কারনে সকল ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন মানুষ। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা জানায়, দৈনিক ১০-১৫ বার লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে জনদূর্ভোগ বাড়ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারনে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। যে সকল মার্কেটে বা দোকানে জেনারেটর নেই সে সকল মার্কেটের ব্যবসায়ীদের দূর্ভোগের শেষ নেই। ব্যবসায়ীরা বিদ্যুতের দাবীতে মানবন্ধন ও সড়ক অবরোধসহ কঠিন কর্মসূচি নিবেন বলে জানান। কিছু কিছু ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সরকার প্রতিদিন জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ যোগ করছে। কিন্তু ফেনীর জনগন তার সুফল পাচ্ছে না। অতিরিক্ত লোডশেডিং বিদ্যুৎ অর্ফিসের ডিজিটাল বাংলাদেশ ব্যাহত করার কোন কারসাজি কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবী জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অনুমান করতে কষ্ট হয় না, এভাবে চলতে থাকলে পুরোপুরি গরমের সময় এটা কতোটা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছুবে। গত কয়েক বছর এই একই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দেশবাসীকে। পিডিবি জানিয়েছে এবার গ্রীষ্মে লোডশেডিং হবে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট। আর এটাও ঠিক যে, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষই যদি এই পরিমাণ লোডশেডিংয়ের কথা বলেন, রাতে তা আরো বেড়ে যাওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। ইতিমধ্যে তো নানা অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগ উপস্থাপিত প্রতিবেদনে গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের মাত্রা দেখানো হয়েছে ৬০০ মেগাওয়াট; কিন্তু পিডিবির দেয়া তথ্য অনুসারে মধ্য মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকে। তাদের হিসাবে এ সময়ে বিদ্যুতের সংকট হবে দুই হাজার মেগাওয়াট। আর দিন দিন তো বিদ্যুতের চাহিদা তো বাড়ছে। এই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন না করতে পারলে তো লোডশেডিং বাড়বেই। গত বছর যেখানে মোট বিদ্যুৎনির্ভর সেচযন্ত্রের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭৮ হাজার ২১। এ বছর এ সংখ্যা ৩ লাখ ১ হাজার ৬৩১। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে গ্যাসের প্রয়োজন সেখানেও উৎপাদনের অভাবে প্রয়োজনীয় গ্যাসের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। এছাড়া দেশে বিদ্যুৎ বিতরণে অব্যবস্থাপনার তো শেষ নেই। সিস্টেম লসও কমানো যাচ্ছে না।
এসবের ওপর রয়েছে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ। দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে এসব অব্যবস্থাপনা দূর করার কোনো বিকল্প নেই। তবে এবার ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৬৫০ মেগাওয়াটের আটটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে। সংশিষ্টরা আশা করছেন, এতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। আমরাও আশা করবো, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রতাশিত উৎপাদন যেন নিশ্চিত করা যায়। আর লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন সময় থাকতেই ব্যবস্থা নেন এটাই কাম্য।
