(১৮ ফেব্রুয়রী ২০১২) দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের ছোড়া পেট্রোলবোমায় নিহত ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার কৃষ্ণরামপুর গ্রামের হাজি তোফাজ্জল রহমানের ছেলে আবদুর রাজ্জাক সুমনকে (২৩) তার পারিবারিক কবরস্থানে শনিবার দাফন করা হয়েছে।
১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি জোহানেসবার্গের সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
দাগনভূঁঞা পৌরসভার মেয়র ওমর ফারুক খান নিহত সুমনের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, সুমন আফ্রিকার ক্যাথলং শহরে প্রায় ১ বছর ৩ মাস অন্যের দোকানে চাকরি করে তিন মাস আগে নিজেই একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। অল্প সময়ে ব্যবসায় তিনি সফল হন।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি কয়েকজন আফ্রিকান সন্ত্রাসী তার দোকানে এসে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।
ওই বোমায় আবদুর রাজ্জাক সুমন গুরতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জোহানেসবার্গ সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করে। ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।
শুক্রবার রাতে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছুলে মর্মস্পশী দৃশ্য সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়ে তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা।
শনিবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহত সুমনের বড় ভাই মিজানুর রহমান কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার সন্ত্রাসীরা যখন তখন মানুষ মেরে কুকুরের মতো ফেলে রাখে রাস্তায়। হত্যাকা-গুলোর কোনো বিচার না হওয়ায় এবং সে দেশে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস না থাকায় প্রবাসীদের সমস্যার অন্ত নেই।
তিনি এসব বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
