(১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২) ভালোবাসা ভালোবাসাই। তবু কেন যেন সন্দেহ রবী ঠাকুরের। তিনি বলেন ‘তোমরা যে কহো দিবস ও রজনী ভালোবাসি ভালোবাসি/ সখি, ভালোবাসা কারে কয়? আর রবী ঠাকুরের সে সন্দেহ বাণীই যেন ফুটে ওঠেছে। প্রত্যাশিত ছোঁয়া লাগেনি ফেনীতে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের। ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে শহরের ফুল ও গিফ্ট এর দোকানগুলোর বাহারী আয়োজন লক্ষ্য করা গেলেও উৎসবে ভাটা পড়ার দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে শহরসহ সবকটি উপজেলার ফুলের দোকান ও গিফ্ট হাউজগুলো বর্ণিল আয়োজনে সাজানো হলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল কম। শহরের বিনোদন স্পটগুলোতে লোক সমাগমও চোখে পড়েনি। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শহরের প্রায় ৩৫ টি ফুলের দোকানে বাড়তি দামে পর্যাপ্ত ফুল সংগ্রহ করেও ক্রেতা সমাগম না থাকায় লোকসান গুনছে অনেক দোকানী। গতবারের চেয়ে এবার ২/৩ গুন ফুল বিক্রি কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সাইমুম গার্ডেনের মালিক ফজলুল কাদের শামীম। এখানে গতবছর ১৩ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হলেও গতকাল বিক্রি হয় মাত্র ৪ হাজার টাকা। এছাড়াও মহিপাল পুষ্প কেন্দ্রে সাড়ে ৪ হাজার টাকা, এলমা পুষ্প ঘর ৫ হাজার টাকা, সাইমুম পুষ্প কেন্দ্রে ৯ হাজার টাকা, কাকলীতে ২ হাজার ১ শ টাকা, ফেনী পুষ্প ঘর ৮ হাজার টাকা, কবরী ১ হাজার টাকা, অর্কিড ৫ হাজার টাকা, ফুঁলকুঁড়ি ৩ হাজার টাকা, পুষ্প কনিকা ৫ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হয়। প্রায় সব ক’টি ফুলের দোকানে ২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুণতে হবে দোকানীদের। সাইমুম গার্ডেনের মালিক ফজলুল কাদের শামীম আক্ষেপের সুরে বলেন, দিবসকে কেন্দ্র করে ২শ ২০ টাকার গোলাপ ৫শ ৭০ টাকা, ২শ ৩০ টাকার রজনীগন্ধা ৩শ ৫০ টাকা, গ্ল্যাক্সি কক্স ১ হাজার ৫শ টাকা, ৩শ ৫০ টাকার ভূট্টা রজনী ৭শ ৫০ টাকা, ২০ টাকার জিপশী ৭০ টাকা, ৩৫ টাকার অর্কিড ৮০ টাকায় কিনে আনলেও ক্রেতা না থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। কিছু কিছু দোকানে ফুলের সাথে গিফ্ট সামগ্রী রাখা হলেও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পারেনি। এর জন্য অর্থনৈতিক মন্দাকেই দায়ী করলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে সোমবার ফেনীতে প্রায় ৭ লাখ টাকার ফুল আমদানী হলেও বিক্রি হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাবসায়ী ফেনীর সময় কে বলেন, ফেনীতে পুষ্প বিপনন সমিতি না থাকায় সিন্ডিকেট ব্যাবসায়ীদের কারনে ফুল ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। শুধু ব্যবসায়ীরাই নয় তবে এক্ষেত্রে ক্রেতারাও ঠকছেন সমানভাবে। বারবার চেষ্টা করেও কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীর কারণে সমিতি গড়তে আমরা ব্যার্থ হয়েছি। এক ফুল ক্রেতা জানান, সমিতি না থাকার কারনে ক্রেতারাই বেশি ঠকছে। ফুল না চেনায় কম মূল্যের চট্টগ্রামের গোলাপ বেশি মূল্যের ঢাকার গোলাপ বলে ক্রেতাদের নিয়মিত ঠকাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে শহরের গিফ্ট হাউজগুলোতেও ক্রেতাদের তেমন লক্ষ্য করা যায়নি। মৃত্তিকা গিফ্ট হাউজের কর্ণধার বাপ্পি জানান, বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে এবার গিফ্ট হাউজগুলোতে তেমন প্রভাব পড়েনি। গতবারের চেয়ে বেচাবিক্রিও কম। শহরের শহীদ হোসেন উদ্দিন বিপনী বিতান, গ্র্যান্ড হক টাওয়ার, গ্রীন টাওয়ার ও এফ রহমান এসি মার্কেটের গিফ্ট হাউজগুলোরও করুন দশা। বেচা বিক্রি হয়নি বললেই চলে। মৃত্তিকা ১০ হাজার, ওয়ান টু নাইনটি নাইন ৫ হাজার, ওয়ান টু ওয়ান নাইনটিনাইন ৩ হাজার টাকা বিক্রি হয়। ফেনীর বিনোদন স্পটগুলোতেও প্রভাব পড়েনি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের। অন্যান্য দিবসে শহরের বিজয়সিংহ দিঘীর পাড়, রাজাঝির দিঘীর পাড়ে শিশু পার্ক, মাষ্টার পাড়ার রামতারা শিশু পার্ক, ধর্মপুরের চৌধুরী বাগান বাড়ী, লেমুয়ার নিহাল পল্লীতে তিল ধারনের ঠাঁই না থাকলেও গতকাল ছিল অনেকটা ফাঁকা। বিভিন্ন স্পটে গুটি কয়েক তরুন তরুনীর দেখা মিললেও দোকানীদের আগ্রহের কমতি ছিলনা। পসরা বিছিয়ে দোকানীদের হাক-ডাক ও কর্মচাঞ্চল্য ভালোবাসা দিবসের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও দর্শনাদর্থী চোখে পড়ে নি। ফেনীর বিজয় সিংহ দিঘির পাড়ে ফুসকা ব্যবসায়ী মতিন বেচা বিক্রি নেই বলে আক্ষেপ করেন। ভুললেন না লোকসানের কথা বলতেও।

