ফেনী সরকারী জিয়া মহিলা কলেজে পিঠা উৎসব

(১৫ জানুয়ারী ২০১২)  শীত শীত মাঘের প্রথম দিন কুয়াশা ভেজা মেঘলা আকাশে এক চিলতে নরম রোদ ও কলেজের শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে ভরে উঠেছে সরকারী জিয়া মহিলা কলেজের প্রাঙ্গন ও মাঠ। আজ আর কলেজের ড্রেস নেই। সবাই হরেক রকমের শাড়ী রূপ সজ্জায় সেজেছে হাজারো ডানাকাটা পরীর সাজে মাঠের এক কোনে শহীদ মিনার বেদীতে রকমারী বাঙলা গানের কনসার্ট বসেছে। শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের পরিবার-পরিজন এ আনন্দ উল্লাসে অংশ নিয়েছে হয়েছে। ফেনী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর উৎপল কান্তি বৈদ্য ও উপাধ্যক্ষ মুহাম্মদ মহীউদ্দিন চৌধুরীসহ শিক্ষক মন্ডলী, ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকম, রামপুর নাছির মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, সাংবাদিকবৃন্দসহ আরো অনেকেই। সরকারী জিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডি.এ বিলকিস আরা চৌধুরীসহ অন্যান্যরা ব্যবস্থাপনাও অতিথি সহ আপ্যায়নে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তিনি অতিথিদের নিয়ে পিঠাফুলি মেলা দেখায় সহযোগিতায় ছিলেন। পিঠাফুলি ও অতি স্বাদের চটপটি দিয়ে আপ্যায়ন করছেন অতিথিদের এ উপলক্ষে মেয়েদের চোখে মুখে আনন্দ উল্ল্যাস ঝরে পড়ছে। “রসে ভরা পিঠাফুলি বড়ই স্বাদ, খেতে খেতে হচ্ছেনা একটিও বাদ”।

অতীতের বাঙলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফিরানিতে রকমারী পিঠা পরিবেশন বাধ্যতামূলক ছিল। অধ্যক্ষের তত্ত্বাবধানে এ পিঠাফুলির আয়োজন সৃজনশীল বিষয়। রকমারী পিঠার লোভ, তৈরীতে মেয়েরা উদ্বুদ্ধ হবে। এ পথেই পিঠা উৎসব সাধনে সহায়তা দেবে। এর জন্য অধ্যক্ষকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। ছবির মিউজিয়ামে কবিদের ও দার্শনিকদের ছবি শোভা পেয়েছে। র‌্যফেল ড্র‘র টিকেট বিক্রি হয়েছে। নানা বৈচিত্র্যে বাংলা নাম পিঠাপুলির দোকানকে দিয়েছে অসাধারণ সৌন্দর্যের আধার যেমন ফুচকা ও চটপটি হাউজ, পাঁচফোড়ন পিঠাঘর, বাংলার পিঠা সম্ভার, থ্রি এস ফ্যাশন, সপ্তবর্ণা পিঠা ঘর, চলো আবার খাবো, বন্ধুদের পৃথিবী, নানী নাতীনের পিঠাঘর, শীতের হিডা খামুরে, পঞ্চাঙ্গের শীতের পিঠা, পিঠা হাট, ফটো মিউজিয়াম, নাবিলা খেলনা স্টোর, গ্রাম বাংলা পিঠাঘর সহ ৩০টি পিঠাফুলি ষ্টল ছিল। হরেক রকমের পিঠাগুলো হলো সাকুর বিপস, পানতুরা, পাটিসাপটা, ডিমপুলি, বরপি, সাকু, ফুলকপির ফুলরি, পুলিসা, ফুল, ডালের, সবজি, সাগু, ঝিলঝিল, মুগ পাকন, কুয়া, ঝালপুয়া, ভিন্নি চালের, দুধ গোলাপ, পান্ডুয়া, ফুলকলি, লিচু, এগবিলি, ডালপুরি, গোলাপ, বোরকি, চালতাফুল, জাদুর পিঠা, সিমের পোক্তা, মালপোয়া, ছাইয়া, লাভপুলি, তারা ফুলি, বাদাম পাপড়ি, ঝিনুক, খিলি, খেজুর, গাজরের কাট প্লেট, কুচিফুলি পিঠা সহ প্র্রায় ৫০ রকমের পিঠাফুলি দোকানে শোভা পেয়েছে। পিঠাফুলিতে ফেনীর ঐতিহ্য এগিয়ে থাকা আরও উৎকর্ষ ঘটেছে। মেলা শেষে ৩০টি স্টলের মধ্যে ড্রেসআপ, পিঠা তৈরীসহ সব মিলিয়ে বিউটি, সাজু, রুমি, তানিয়া, ঝুমুর, সাহেলা ও মিনাঙ্গীদের ‘শীতের হিডা খামুরে’ স্টল প্রথম হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী রাবেয়া সুলতানা বিউটি জানান, স্টলটি পিঠা উৎসবে প্রায় ২৫ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করে। অধ্যক্ষ প্রফেসর ডি.এ বিলকিস আরা চৌধুরী জানান, এই প্রথম বারের মত পিঠা উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে একদিকে ছাত্রীদের মাঝে বিনোদনের ছোঁয়া লাগবে অন্যদিকে গ্রাম বাংলার পিঠাগুলো নতুন প্রজম্মের কাছে পরিচিত হবে। তিনি আরো বলেন এখন নতুন প্রজম্ম গ্রাম বাংলার পিঠাগুলোর নাম ভুলেই যাচ্ছে তাই কলেজে পিঠা উৎসব করে ছাত্রীদের কে পিঠা তৈরীতে পারদর্শী ও পিঠাগুলোর নাম তাদের স্মরন করিয়ে দেয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে এই অনুষ্ঠান ভূমিকা রাখছে। পিঠা উৎসব অনুষ্ঠানে কলেজের সাড়ে ৩ হাজার ছাত্রীসহ শহরের আশপাশের কলেজগুলোর ছাত্রীরাও অংশগ্রহন করেছে বলে তিনি জানান।
সুত্র - ফেনীর সময়