ঈদ সামনে রেখে ফেনীতে অপরাধীরা বেপরোয়া
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠছে অপরাধীরা। ফেনীতে ডাকাতি, ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির দৌরাত্ম ক্রমেই বাড়ছে। পশু ব্যবসায়ীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন চাঁদাবাজির আশঙ্কায়। পথে পথে চাঁদাবাজি বন্ধের এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। এ দিকে হাট বসানোকে কেন্দ্র করে ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন অনেকে। তবে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনী কলেজ মাঠ গরু বাজারের ইজারাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৭ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহতদের মধ্যে ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আশংকাজনক অবস্থায় এনাম নামের ছাত্রলীগ নেতাকে জরুরী ভাবে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টার দিকে ফেনী কলেজ গরুর মাঠের ইজারা নিয়ে জুয়েল গ্র“প ও মামুন গ্র“পের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয় ও সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় মামুন ও সৈকতের নেতৃত্বে এক পক্ষ প্রতিদ্বন্ধী গ্র“পের কয়েক জনকে ধাওয়া করে গরু বাজারে নিয়ে। সেখানে এনাম, বাবু , করিম, কামাল ও সাখাওয়াতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাতœক জখম করে ফেলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠায়। অবস্থার অবনতি ঘটলে এনামকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সূত্র জানায়, ফেনীর বিভিন্ন স্থানে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ছিনতাইকারীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন ফেনীর বাসিন্দারা। প্রতিদিনই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। কিন্ত– বেশির ভাগ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা না হওয়ায় অপরাধের রেকর্ড থাকছে না। বেশ কয়েকটি ¯পটে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে বিভিন্ন ¯পটে রিকশার গতিরোধ করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন এলাকায় এভাবে ছিনতাই ঘটছে। সূত্র জানায়, কোরবানির আগে বড় অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। আর এ সময় অপরাধীদের আনাগোনাও বেড়ে যায়। মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতাও বেড়েছে। গত তিন দিনে এসব অপরাধীর কবলে অন্তত ১০ জন হাসপাতালে গেছেন। ডাকাতিও বেপরোয়াভাবে বেড়ে চলছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ডাকাতি হচ্ছে। ডাকাতরা দিনদুপুরে বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে লুট করছে। সূত্র জানান, পশু বিক্রেতাদের অনেকেই পশু বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না সে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অপরদিকে পশুবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজি হবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যায়নি। প্রতিবারই দেখা যায় পথে পথে চাঁদা দিতে হয় পশুবাহী যানবাহনকে। এবারো এমন ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র জানায়, প্রতি বছর পশুবাহী যানবাহনে সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি অসাধু পুলিশ সদস্যরাও চাঁদাবাজি করে থাকে। সেই আশঙ্কা এবারেও রয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, কোরবানিকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার মোঃ ইমাম হোসেন সহ জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারাও মাঠে তৎপর রয়েছেন।
Labels:
অপরাধ / অনিয়ম / দুর্নীতি
